জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা: দেশের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর কুমিল্লা, নেয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিবিড় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকরের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের তহবিল থেকে ৪৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
যেসব উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে সেগুলো হলো, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা। চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মীরসরাই, পটিয়া, হালিশহর, হাটহাজারী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া এবং লোহাগড়া উপজেলা। ফেনীর ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া, দাগনভুঁইয়া ও সোনাগাজী উপজেলা। নোয়াখালীর নোয়াখালী সদর, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সোনাইমুড়ি এবং চাটখিল উপজেলা। কুমিল্লার কুমিল্লা সদর, দেবীদ্বার, দাউদকান্দি, মুরাদনগর, লাকসাম, বুড়িচং এবং ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা। চাঁদপুরের শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ এবং মতলব উপজেলা। লক্ষ্মীপুরের লক্ষ্মীপুর সদর এবং রামগঞ্জ উপজেলা। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা। কক্সবাজারের কক্সবাজার সদর, চকোরিয়া এবং রামু উপজেলা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের মধ্যে সবার কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লান অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ আবশ্যক। এ জন্য পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লান ২০১৬ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম একটি সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড একটি শক্তিশালী গ্রিডে নেটওয়ার্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবর্ধন শীর্ষক প্রকল্পটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, একটি শক্তিশালী দক্ষ ও বর্ধিত ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। এর আওতায় দেশের পূর্বাঞ্চল তথ্য বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে গ্রিড নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ক্ষমতা বর্ধিতকরণের কাজ অন্তর্ভুক্ত। এলাকাগুলোর বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামো বহুলাংশে পুরাতন এবং প্রয়োজনের তুলনায় সঞ্চালন ক্ষমতা অপ্রতুল। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে চট্টগ্রাম এলাকায় ব্যাপক শিল্পায়নের দুয়ার উম্মোচিত হয়েছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিকটবর্তী কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে চলেছে। তাই বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলাকাগুলোকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম গুলো হচ্ছে, ১২ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ১৭৫ দশমিক ৯১ কিলোমিটার ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ২৫৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ২টি ৪০০ কেভি সাব-স্টেশন, ২টি ২৩০ কেভি সাব-স্টেশন, ১০টি ১৩২ কেভি সাব-স্টেশন, ৬টি বে সম্প্রসারণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নতকরণ, ৮৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের ফলে পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন ও ক্ষমতাবর্ধনের মাধ্যমে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে আশা করা যায়।
সারাবাংলা/এসআই/ এমএইচ