স্বজনদের আহাজারিতে স্তব্ধ শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট
১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ০০:৫৮ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৩:২৫
ঢাকা: ‘আমার ছেলেরে আমি কীভাবে খাওয়াব?’, ‘আল্লাহ আমারে কেন এমন বিপদে ফালাইলা!’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্না করছিলেন আফসানা বেগম।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের সামনে তার কান্নায় স্তব্ধ সবাই। আফসানার স্বামী ওমর ফারুক (৩২) কেরাণীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আফসানা তার ৩ বছর সাত মাস বয়সী বাচ্চার কথা বলে শুধু বিলাপ করছেন।
https://youtu.be/ef9kHRFzfXI
একই অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন আলম। তার বড় ভাই রাজ্জাক (৪৫) দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। রাজ্জাকের স্ত্রী গুলশান আরা বেহুশ কাঁদছিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন তার দেবর জাকির ও অন্য স্বজনেরা।
১৪ বছর বয়সী আসাদের মা শাহানা বেগম ও বড় বোন শিরিন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আসাদের শরীর প্রায় ৫০ ভাগ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ছেলের শরীরের এই অবস্থা দেখে সইতে পারছিলেন না মা শাহানা। তাই বড় ভাই মো. সোহেল মা ও বোনকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
এবারই এইচএসসি পাশ করে মেহেদী হাসান। বৃহস্পতিবার কলেজে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এদিনই সকালে মারা যায় সে। আইসিইউ’র সামনেই কান্না করছিলেন তার বোন সোনিয়া। পাশেই ছিল মেহেদীর দুই ভাই। বোনকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়ছিল। তারা বলছিল, ‘জীবনের শেষ বারের মতো ভাইকে নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে স্বজনদের আহাজারিতে এভাবেই স্তব্ধ হয়ে থাকে পুরো হাসপাতাল। কেউ সৃষ্টিকর্তার কাছে স্বজনের সুস্থতা কামনা করছেন আর কেউ বা স্বজন হারানো বেদনায় কাঁদছিলেন।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, হাসপাতালে বর্তমানে ৮ জনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ার তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উল্লেখ্য, বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেরাণীগঞ্জের চুনকুঠিয়ায় প্রাইম প্যাক্ট নামের একটি প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় সোয়া একঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ঘটনাস্থলেই মারা যান আরও একজন। এছাড়া ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৪ জন।
আরও পড়ুন:- কেরাণীগঞ্জে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন: ঢামেকে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩
‘আমি না বাঁচলে আপার বিয়ে দিব ক্যামনে’
কারখানায় আগুন: ঢামেক হাসপাতালে মারা যাওয়া ১০ জনকে হস্তান্তর