রিপন আনসারী, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মানিকগঞ্জ: অরেঞ্জ কিং বা কমলা রংঙের গাজর। মূলত শীতকালের সবজি। টকটকে রঙ হওয়ায় যে কারো চোখ জুড়িয়ে যায়। মানিকগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন চাষ হচ্ছে এই অরেঞ্জ কিং। যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রফতানি হচ্ছে বিদেশেও।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টব ইউনিয়নের মাঠ জুড়েই এমন গাজরের সমাহার। গাজরের ভরা মওসুমে এখানকার কৃষক বেশ খুশি। বাম্পার ফলনের সাথে দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকের হাসির মূল কারণ। স্থানীয় কিটিংচর গ্রামের গাজর চাষি রাশিদা বেগম জানান, তিন বিঘা জমিতে এবার অরেঞ্জ কিং গাজর আবাদ করেছেন। ফলনও খুব ভাল হয়েছে। তিনি এবার ভালো দামের আশা করছেন।
গাজর চাষি রমজান আলী জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে গাজরের চাষ করে আসছেন। শুধু তাই নয় অন্যের ক্ষেত কিনে তা পাইকারি দামে বিক্রিও করছেন। এ বছর নিজের ছয় বিঘা জমিতে নিজে গাজর আবাদ করেছেন। প্রথম দিকে বাজারে ভাল দাম পেলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় লাভও কম হচ্ছে। তিনি জানান, ক্ষেত থেকে গাজর তুলে তা ঢাকার কারওয়ান বাজার, কুমিল্লা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করা হয়।

কিটিংচর গ্রামের গাজর চাষি লাল মিয়া জানান, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে গাজর আবাদ করেছেন। এবার প্রতি বিঘা ক্ষেত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, উন্নতমানের জাপানী জাতের অরেঞ্জ কিং গাজরের বীজের দাম অনেক বেশি। এক কেজি বীজ প্রায় ১২ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। প্রতি বিঘা গাজর আবাদ করতে খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গাজর পাওয়া যায় কমপক্ষে ১২০ থেকে ১৪০ মণ। এবার গাজরের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও ভাল পাওয়া যাচ্ছে।
গাজর ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন দাম কমে গেছে। আগের পাইকারী দর ২০ টাকা কেজি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা কেজি।
সিংগাইর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কৃষক গাজর আবাদ করেছে। এর মধ্যে জয়মন্টপ ইউনিয়নেই চাষ হয়েছে ৬শ ৬০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া আর বেলে-দোআঁশ মাটির কারণে এ অঞ্চলে গাজরের আবাদ বেশি হয়।
সারাবাংলা/এমএইচ/ জেএএম