Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন


২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৫:২৫ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ১৬:০৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

একনেক বৈঠক (ফাইল ছবি)

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মোট ৫ হাজার ৮শ ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। সরকারি তহবিল থেকে আসবে ১ হাজার ৬শ ৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে পাওয়া যাবে ৪শ ৭৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।

’পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবর্ধন’ শীর্ষক এই প্রকল্পসহ  ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৯শ ৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৯শ ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৫শ ২৩ কোটি ২২ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫২৩ কোটি ৬৯ টাকা খরচ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের লাইফলাইন। ছোট-বড়-মাঝারি যে কোন ধরনের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ দরকার। আবাসিক খাতেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রীডে রয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য তার সবটুকু গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না।

মন্ত্রী বলেন, আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি তিনগুণ; আর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বেড়েছে দুই গুণ। এখন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের দিকে এগুলেও কৃষিকে বাদ দেয়া যাবে না। কৃষিতে সনাতন কর্মকৌশলের জায়গায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো, সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকেও কৃষিতে আগ্রহী করে তোলা যাবে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্প গুলো হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবর্ধন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিভাগের পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৮শ ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩শ ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২শ ৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রংপুর অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১শ ৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭শ ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নবসংযুক্ত নাসিরাবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কালুখালী ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে পার্বতীপুর হতে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটারগেজ রেলওয়ে লাইনকে ডুয়েলগেজে রুপান্তর প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জন্য বিভিন্ন বিওপির পরিসীমা বরাবর কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরন (বরিশাল জোন) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জামালপুর-চেচুয়া-মুক্তাগাছা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৬০ কোটি ৮লাখ টাকা। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, গাজীপুর , প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বীমা খাত প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬শ ৩২ কোটি টাকা।

(সারাবাংলা/জেজে/ জেএএম)