নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
খুলনা থেকে: দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে রূপসা এবং ভৈরব নদী তীরের জনপদ খুলনা। শিল্প নগরী হিসেবে পরিচিত রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরেই দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এ শহরে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনা সার্কিট হাউস মাঠের জনসভায় জনস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় শনিবার দুপুর ১২টার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে নেতাকর্মী নির্বাচনী উৎসব আমেজে যোগ দিতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্কিট হাউস মাঠসহ আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১১টার পর থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে মিছিল, বাদ্য বাজনা, ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে জনসভা মাঠের দিকে আসতে শুরু করে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি খুলনায় জনসভা করেছিলেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও তিনি ২০১৫ সালে একবার খুলনায় এসেছিলেন। ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর খুলনা শিপইয়ার্ডে একটি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

শনিবার বিকেলে তিনটায় একঝাঁক উন্নয়ন উপহার নিয়ে খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
এর আগে খুলনার খালিশপুরে শনিবার বেলা ১১টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) ৫৮তম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার; তাদের বাজেট ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা। আমরা সেই বাজেট বাড়িয়ে ৪ লাখ কোটি টাকা করেছি। ১৯ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জায়গায় আমরা দেড় লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সারাদেশে চালিয়ে যাচ্ছি যা অতীতে আর কোনো সরকারই করতে পারেনি।’
‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে’- জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এবারের বাজেটে ঘোষিত প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ ভাগ আমরা অর্জন করতে পারব।’

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি দূর করার জন্য বঙ্গবন্ধু নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, বাংলার মাটি থেকে করাপশন দূর করতে হবে। করাপশন কৃষক করে না, শ্রমিক মজুর করে না। করে আমাদের মতো শিক্ষিত মানুষ, আমরা তাদের টাকায় লেখাপড়া করি।”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমরা দুর্নীতি কমানোর সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছি।’
শেখ হাসিনার জনসভাকে সফল করার লক্ষ্যে খুলনা মহানগরী তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায় বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়েছে। মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলোর ওপর তোরণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ স্থানীয় নেতাদের ছবি সংবলিত তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল আকৃতির ‘নৌকা মঞ্চ’। জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীরা সাজ সাজ রবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।

শনিবার খুলনায় জনসভায় অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করার লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জনসভা সংংশ্লিষ্ট নেতারা। জনসভাকে ঘিরে রাতের খুলনায় জনসভায় সাজ থাকলেও পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নগরীতে সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে ১৫ দিন ধরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ডে প্রচার ও শুভেচ্ছা মিছিল করছে বলে জানান।
শনিবারের জনসভার লোকসমাগম অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করবে বলে আশাবাদ করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিজান এ বিষয়ে বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে খুলনাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।’
সারাবাংলা/এমএইচ/একে