জোসনা জামান, স্টাফ করেনপন্ডেন্ট
ঢাকার মিরপুরে ইসিবি চত্বর থেকে কালশী মোড় পর্যন্ত নতুন একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এটির দৈর্ঘ্য হবে ৮৪৪ দশমিক ১২ মিটার। সেই সঙ্গে সড়কও সম্প্রসারণ করা হবে। এতে মিরপুর,পল্লবী, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, মহাখালী ও রামপুরার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। তাছাড়া সড়কে যানবাহনের ধারণক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় যানজট কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফ্লাইওভার নির্মাণে ৬১২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা খরচের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এরইমধ্যে অনুমোদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে এ বছর থেকেই ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও সেনাবাহিনী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিরপুর থেকে বিমানবন্দর,উত্তরা ও টঙ্গী হয়ে উত্তর দিকে যাওয়ার জন্য কালশী হয়ে জিয়া কলোনি দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ওপর দিয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে মিরপুর এলাকা দিয়ে রাস্তার ব্যবহার বেড়ে যায়। এখন প্রায় প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ হাজার যানবাহন এ রাস্তা ব্যবহার করছে। তাছাড়া রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন, হাসপাতাল, ক্লিনিক গড়ে উঠছে।
মিরপুর ১২ এলাকায় অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ ইউনিভারসিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং মিরপুর ক্যান্ট, পাবলিক স্কুল এর বহুসংখ্যক শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া এখানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হাউজিং অথরিটির মাধ্যমে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কার্যক্রম প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে। এগুলো শেষ হলে এ এলাকায় যান চলাচল আরো বেড়ে যাবে। উত্তরা হতে মিরপুর পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগকারী সড়কের অপ্রতুলতার জন্য উত্তরা, রামপুরা বা মহাখালীর অধিবাসীরা মিরপুর যাওয়ার জন্য এ সড়ক ব্যবহার করে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ ট্রাফিক বিবেচনায় এনে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে মিরপুরসহ ঢাকা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের সাথে, টঙ্গী, বিমান বন্দর, গুলশান, বনানী ও অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এছাড়া মিরপুর ডিওএইচএস এর নিকটবর্তী এলাকায় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ নির্মাণাধীন ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পরে ভবিষ্যতে যানজট কমানো সম্ভব হবে। তাই প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সারাবাংলা/জেজে/একে