Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘মাস্টার অব ল্যান্ডিং’ ছিলেন ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান


১৩ মার্চ ২০১৮ ২১:১০ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০১৮ ২০:০৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে ‘মাস্টার অব ল্যান্ডিং’ বলে অভিহিত করেছেন তার প্রশিক্ষণ ক্লাসের শিক্ষার্থী সৌরভ আল জাহিদ। তার মতো এমন মাস্টার অব ল্যান্ডিংয়ের স্বয়ং বিমান বিধ্বস্ত হবার এ সংবাদে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ সৌরভ।

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সৌরভ আল জাহিদ। সৌরভ কথা বলেন সারাবাংলার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে সৌরভের ফ্লাইং প্রশিক্ষক ছিলেন ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। ক্যাপ্টেন আবিদ তখন ছিলেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে। তিনি ছিলেন আমার দেখা বাংলাদেশের বেস্ট পাইলটদের একজন।’

সৌরভ আরও বলেন, ‘ক্যাপ্টেন আবিদ স্যার আমার ফ্লাইট সেইফটি ক্লাস নিয়েছিলেন। স্যার কথা কম বলতেন। অত্যন্ত ভদ্র, নিষ্ঠাবান এবং একজন ভালো মানুষ ছিলেন স্যার।’

বিজ্ঞাপন

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কথা স্মরণ করে সৌরভ বলেন, ‘উনি ছিলেন মাস্টার অব ল্যান্ডিং। একইসঙ্গে ল্যান্ডিং অ্যাপ্রোচে তার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ পাইলটের এ রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়াটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না, আর তাই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

গত সোমবার বেলা আড়াইটায় ৬৭ যাত্রী আর ৪ ক্রু নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যায় ইউএস-বাংলার  উড়োজাহাজটি। বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটিতে ছিলেন ৩২ জন বাংলাদেশি, ৩৩ জন নেপালি, মালদ্বীপ ও চীনের একজন করে নাগরিক। এ ছাড়াও ছিলেন পাইলট আবিদ সুলতানসহ তিনজন ক্রু।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ছেড়ে যাবার পর দুপুর তিনটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়।

গতকাল সোমবার ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজটির পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের কথা ‘ক্রিটিক্যাল’ বলে জানায়। আজ ভোর রাতে আবিদ সুলতানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ ক্যাপ্টেন আবিদের মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায়।

পরিবারের পক্ষ থেকে আবিদ সুলতানের এক স্বজন জানান, গতকালই আমরা খবর পেয়েছিলাম তিনি গুরুতর আহত, শরীরের বেশির ভাগ অংশই পুড়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর আশংকাজনক অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে কাঠমান্ডুর নরভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই তিনি মারা যান।

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের মৃত্যুর সংবাদের পরপরই ছোটবেলার বন্ধু আবিদ সুলতানকে নিয়ে কারু তিতাসের দেওয়া ফেসবুক থেকে জানা যায়, পল্লবীতে মাঝে মাঝে স্কুলের বন্ধুরা একসাথে হতো, সেখানে আবিদ সুলতানও আসতেন। কিন্তু তিতাসের যাওয়া হতো না। তিতাস লেখেন, ধানমণ্ডি থেকে পল্লবী কোনো দূর না। আবিদ সুলতান (গুড্ডু) এখন অনেক দূরে, দূর আকাশে! আর ফোনেও কথা হবে না কখনো!

বন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছেন কারু তিতাস। ছোটবেলার বন্ধুদের কাছে গুড্ডু নামের বন্ধুটিই ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান। আবিদ সুলতানকে তুখোড় ছাত্র উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমরা একসাথে স্কুলে ভর্তি হই, একসাথে স্কুল পাস করি। তুখোড় ছাত্র ছিল ও। আশির দশক, তখন আমরা ফুটবল খেলতাম। আমি গোলকিপার হয়ে খেলতাম। গুড্ডু যে কতবার ওর রংধনু শর্টে আমাকে পরাজিত করেছে। আজ কতকিছুই না মনে পড়ছে।’

শেষে তিনি বন্ধুর উদ্দেশে লেখেন, ‘দূর আকাশে ভালো থাকিস বন্ধু।’

সারাবাংলা/জেএ/আইজেকে