।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চট্টগ্রাম ব্যুরো ।।
চট্টগ্রাম: কিছু বিদেশি এনজিও রোহিঙ্গাদের পাহাড়, বন দখল করতে উদ্বুদ্ধ করছে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমানকে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো.আবদুল মান্নান। এসব বিদেশি এনজিওকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
রোববার (১৮ মার্চ) বিকেলে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত থাকা মুখ্য সচিবকে বিভাগীয় কমিশনার এই তথ্য জানান।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কিছু বিদেশি এনজিও রোহিঙ্গাদের পাহাড়, বনসহ বিভিন্ন জায়গা দখল করতে উদ্বুদ্ধ করছে। দেশি এনজিওগুলো এর মধ্যে নেই। বিদেশি এনজিওগুলোর আমাদের বন কিংবা শিক্ষা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই।
তিনি মুখ্য সচিবকে আশ্বস্ত করে বলেন, ক্যাম্পে কর্মরত বিদেশিদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নজরদারি রয়েছে। আমরা সতর্ক রয়েছি।

আগামী বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়, ঢল ও পাহাড় ধস থেকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের রক্ষার প্রস্তুতি নিতে এই ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্ষায় ভূমিধস ঠেকাতে এবং কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানটেকের আশ্রয় শিবির নেয়ার জন্য তাদের সচেতন করতে মুখ্যসচিব নির্দেশ দেন।
এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত বিভাগীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মো. জগলুল হোসেন জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের কারণে ৫ হাজার ১৭ একর বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বনের মধ্যে ২১৩ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা সামাজিক বনায়নের এবং ১৯৭ দশমিক ৪০ কোটি টাকা প্রাকৃতিক বনের ক্ষতি হয়েছে।

৪১১ কোটি টাকার জীব বৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। হাতির আবাস নষ্ট হওয়ায় বন্য হাতির আক্রমণে এ পর্যন্ত ১৩ জন মারা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বনের কারণে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সুপারিশ এসেছে সভায়।
এতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনির-উজ-জামান, সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবদুল খালেক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সারাবাংলা/আরডি/ এমএইচ