সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৪
২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ২২:৫৯
সুনামগঞ্জ: জেলার তাহিরপুরে দৈনিক সংবাদের স্থানীয় প্রতিনিধি কামাল হোসেনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও আরও ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সাংবাদিক কামাল হোসেন নিজে বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিপঙ্কর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীরের ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহ (৩৮), রইস উদ্দিন (৪০), দ্বীন ইসলাম (৩৫), মুশাহিদ তালুকদার (৪৫) ও মনির উদ্দিন মেম্বার (৫২)।
ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উপজেলার ঘাঘটিয়া গ্রামের ফয়সাল আহমদ (১৯), আনহারুল ইসলাম (২০), তাহির হোসেন (২০) ও মাসরিদুল ইসলামকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক কামাল হোসেনকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের আলফাত উদ্দিন স্কয়ারে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়।
এ সময় বক্তারা সাংবাদিক কামাল হোসেনকে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তিরও দাবি জানান।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি বিন্দু তালুকদারর এই মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন। এ সময় জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সমকাল ও এটিএন বাংলার জেলা প্রতিনিধি পঙ্কজ কান্তি দে, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি ও মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস, চ্যানেল এস’র জেলা প্রতিনিধি আকরাম উদ্দিন এবং ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি বুরহান উদ্দিনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন।
প্রসঙ্গত, গতকাল সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট জাদুকাটা নদীর ঘাগটিয়া এলাকায় নদীর তীর কেটে বালু-পাথর উত্তোলনের ছবি তোলার সময় সাংবাদিক কামাল হোসেনকে (৩০) গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাংবাদিক কামাল হোসেন উপজেলার বাদাঘাট বাজার এলাকার কামরাবন গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তাকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
সারাবাংলা/এনএস