Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বটতলা আছে কিন্তু সেই উকিল নেই


২২ মার্চ ২০১৮ ০৮:৪৮ | আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০১৮ ২০:১৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আরিফুল ইসলাম ।।স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।।

ঢাকা: সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে বটতলার উকিলের দৃশ্য। দেশের প্রতিটি আদালতে এখনো সেই বটগাছ থাকলেও বটতলার উকিল আর নেই।

ব্রিটিশ আমল থেকে এদেশে বিচারকাজ পরিচালনার জন্য গ্রামের মন্ডল-মাতব্বর বট বা কদম গাছের নিচে জড়ো হতেন। গ্রামের পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিভিন্ন সালিশি কাজের সমাধানের জন্য এই বট বা কদম গাছকে ব্যবহার করতেন।

ব্রিটিশ আমলে আদালত এলাকায় উকিলদের বসার তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু প্রত্যেক আদালত মাঠে প্রকাণ্ড একটা বটগাছ, অশ্বত্থ গাছ কিংবা পাঁকুড় গাছ থাকতো। সে সময়ের বেশীরভাগ উকিল মামলার সমস্ত কাজকর্ম বটগাছের ছায়ার নিচে বসে করতেন। তারাই বটতলার উকিল নামে আখ্যায়িত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আগে আদালত পাড়ায় বটগাছের নিচে উকিল বসতে দেখা গেলেও সেই দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। সব জেলা শহরেই আইনজীবীদের জন্য বার বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। সেখানে তাদের চেম্বার ও কমনরুম, হলরুম থাকে। সেখানে বসেই তারা মামলার কাজ পরিচালনা করেন।

ঢাকার জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম (৪২) বলেন, ‘বটতলার উকিল’ এটি একটি প্রবাদ অর্থে ব্যবহৃত হয়। বটতলার উকিল হচ্ছেন তারাই, যাদের চেম্বার ভাড়া নেওয়ার মত অর্থ নেই কিন্তু জীবিকার তাগিদে কোর্টের আশেপাশে বসে মক্কেলদের কাজ করে থাকেন।’

অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান (৬৮) বলেন, বটতলার উকিল বলতে কিছু নেই। এটা রুপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। যে সকল আইনজীবীদের বেশী মামলা থাকে না, তারা চেম্বার না নিয়ে এখানে ওখানে বসে কাজ করে থাকেন। তারা সাধারণত যে কাজ পায় তাই করে থাকেন। সাধারণত তাদেরই বটতলার উকিল বলা হয়ে থাকে।’

অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম (৪৮) সারাবাংলাকে বলেন, ‘বটতলার উকিল মূলত তরাই, যাদের নির্দিষ্ট কোন চেম্বার নেই। তাদের মক্কেলের মামলার কাজ আদালতের বড় কোনো ছায়ায় বসে করেন।’

তিনি আরও বলেন, দেশের আদালতগুলোতে এখন বটগাছ আছে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে উকিলদের বসার জায়গা। তারা এখন আর বটগাছ তলায় বসেন না। তাদের জন্য নির্মিত হয়েছে বহুতল ভবন। তবে এখনও তাচ্ছিল্য অর্থে বটতলার উকিল বলা হয়ে থাকে।

সারাবাংলা/এআই/