Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্বের ৯৫ শতাংশ মানুষ বায়ু দূষণের শিকার


১৮ এপ্রিল ২০১৮ ১৯:২৪ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০১৮ ১৬:০৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।

মানুষের জীবন রক্ষা ও সুস্থতায় বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, পৃথিবীর ৯৫ শতাংশ মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দূষিত বাতাস গ্রহণ করছেন। এতে ফুসফুস ক্যান্সার ও স্ট্রোকসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন। বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব দরিদ্র দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) হেলথ ইফেক্ট ইনস্টিটিউটের (এইচইআই) বায়ু দূষণ নিয়ে প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরে ওই প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সারাবিশ্বে বায়ু দূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ মারা গেছেন। দূষিত বায়ুর প্রভাবে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, ফুসফুস ক্যান্সার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বড়ছে। যাতে মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যাচ্ছে, তার কারণ হিসেবে চতুর্থস্থানে রয়েছে বায়ু দূষণ। উচ্চ রক্তচাপ, খাদ্য সংক্রান্ত সমস্যা ও ধূমপানের পরেই এর অবস্থান।

২০১৭ সালের নভেম্বরে ভারতের অম্রিতসরে দেখা গেছে সেখানে যাত্রীরা এমন ধুলোর মধ্যদিয়ে যাতায়াত করছেন, দেখে মনে হয়ে যেন পুরো এলাকা ধোঁয়া ও কুয়াশা দ্বারা আচ্ছাদিত। গবেষণায় দেখা যায়, ভারতে বায়ু দূষণজনিত রোগে মৃত্যের ৭৫ শতাংশই গ্রামের নাগরিক।

এইচইআই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বব ও কিফে এক বিবৃতিতে বলেন, বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হচ্ছে সারা বিশ্বের মানুষ। বহু মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স্ক ও যুবকসহ সব মানুষকেই বায়ু দূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। অনেকে সময় মত স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছেন না। অনেকেই কম বয়সে মারা যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আগের তুলনায় কিছু কিছু এলাকায় বায়ু দূষণ কমেছে। কিন্তু দূষণ দূর করার জন্য অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেগুলো মোকাবেলা করা বেশ কঠিন।

প্রতিবেদনে আরও বল হয়, বায়ু দূষণে পৃথিবীতে যতো মানুষ মারা যায় তার ৫০ শতাংশই মারা যায় চীন ও ভারতে। বায়ু দূষণে অকালমৃত্যুর ক্ষেতে চীনের চেয়ে ভারত এগিয়ে। ২০১৬ সালের তথ্য অনুয়ায়ী, ভারতে বায়ু দূষণে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ভারতে প্রতি চার চনের একজন বায়ূ দূষণের কারণে মারা যায়; আর চীনে মারা যায় প্রতি পাঁচ জনে একজন।

এই রিপোর্ট যখন করা হয় তখন দেখা গেছে চীনে আগের তুলনায় বায়ু দূষণ কিছুটা কম। তবে ২০১০ সালের তুলনায় ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, বাসাবাড়ি বা ঘরে বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হল কঠিন জ্বালানির ব্যবহার। বাড়িতে রান্নাকরা ও খাবার গরম করার কাছে তারা কাঠের মতো কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করে থাকেন। ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায় পৃথিবীর আড়াইশ কোটি মানুষ তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাঠ এবং কয়লা ব্যবহার করে থাকেন। ১৯৯০ সালে পৃথিবীর প্রায় তিনশ কোটি ৬০ লাখ মানুষ কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করত। সেখানে ২০১৬ সালে কঠিন জ্বালানি ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় দুইশ কোটি ৪০ লাখ। যদিও অগের তুলনায় মানুষের সংখ্যা এখন অনেক বেড়ে গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, এশিয়া ও অফ্রিকা মহাদেশের স্বল্প আয়ের দেশগুলোর মানুষেরা বায়ু দূষণে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের বাড়ি এবং বাড়ির বাইরে বায়ু দূষেণের মাত্রা বেশি।

সারাবাংলা/আইএ/এমএস

বিজ্ঞাপন

আরো