Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১৫ বছর নয়, ১০ বছরেই শতভাগ পেনশনের দাবি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:২৯ | আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৭

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পেনশন বৈষম্য দূরীকরণ পরিষদ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: শতভাগ সমর্পিত পেনশন ১৫ বছরের স্থলে ১০ বছরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে পেনশন বৈষম্য দূরীকরণ পরিষদ নামে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সংগঠন।

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পেনশন বৈষম্য দূরীকরণ পরিষদ নামের এই সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

এছাড়া নতুন ও পুরাতন স্কেলের পেনশনারদের পেনশন বৈষম্য দূরীকরণে এক পদ এক পেনশন চালুকরণ ও কর্মরত গণকর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতাসহ পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জুলাই ১৯৯৪ থেকে জুন ২০১৭ পর্যন্ত সময়ে সরকারি কর্মচারিরা শতভাগ পেনশন সমর্পন করতে পারতেন। প্রধানত, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, বিয়ে, পেনশন জটিলতা এবং রাজনৈতিক হয়রানির ভয়ে অনেকেই শতভাগ পেনশন সমর্পন করেন। চলমান বাজারমূল্য এবং সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ ভালো থাকায় প্রথমদিকে তেমন অসুবিধায় পড়েননি শতভাগ সমর্পনকারীরা। পরবর্তীতে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ কমিয়ে দেওয়ায় গণকর্মচারীদের জীবনযাপন দুঃসহ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অনেকেই শেয়ার বাজার এবং ব্যবসা বাণিজ্যে টাকা খাটিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান। শতভাগ পেনশন সমর্পনের ভ্রান্ত নীতি গণকর্মচারীদের চরম আর্থিক দুর্ভোগ ডেকে আনেন। এই অবস্থায় অনেক আবেদন নিবেদনের পর সরকার ৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে শতভাগ পেনশন সম্পনকারীদের পেনশন ১৫ বছরে পুনঃস্থাপনের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কিন্তু এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ শতভাগ পেনশন সমর্পনকারীগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়নি।

পেনশনরারা জানান, ১৫ বছরে পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পেতে হলে একজন পেনশনারকে কমপক্ষে ৭৩ বা ৭৫ বছর বেঁচে থাকতে হবে। আমাদের বর্তমান গড় আয়ু ৬৯.৬ বছর। একজন পেনশনার ৭৫ বছর বেঁচে থেকে পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা পেলেও তিনি কতদিন তা ভোগ করতে পারবেন সেটিও বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মরার উপর খাড়ার ঘা হচ্ছে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন পুনঃস্থাপন হবার একদিন আগেও তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তার পরিবার পেনশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে, যৌক্তিক কারণেই পেনশন পুনঃস্থাপনের সময়সীমা ১৫ বছর হতে ১০ বছর করা হলে উপকারভোগীর সংখ্যা অনেকটা বাড়বে এবং তারা জীবনের শেষ কিছুদিন আর্থিক নিরাপত্তা ভোগ করার সুযোগ পাবেন।

বাজারমূল্য ও বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে অপ্রতুল চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যারা পেনশন পান সবাই বয়স্ক। রোগব্যাধি তাদের নিত্য সহচর। দ্রুত জরা ও বার্ধক্য তাদের গ্রাস করে। যাদের বয়স ৬৫ বছরের উর্দ্ধে তারা দ্রুতই বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত হন। ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস, ব্যয়বহুল ডায়ালাইসিস, স্ট্রোক, স্নায়ুরোগের মত চিকিৎসার অর্থ যোগান দিতে তারা নিঃস্ব। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের অসুস্থতায় শুধু মাসিক ইনসুলিন কিনতে ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। ডায়ালাইসিস রোগের চিকিৎসায় এসব মানুষের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। পেনশনারদের ৮০ ভাগই তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।

ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকে স্থায়ী আমানতের মুনাফার হার হ্রাস পেনশনারদের এক কঠিন বাস্তবতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাই চিকিৎসাভাতা বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমপি