‘পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশ গড়তে দরকার টেকসই পোলট্রি শিল্প’
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:০৮
ঢাকা: শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবী জুড়েই প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস এখন পোলট্রি। জনসংখ্যা বাড়ছে, ফলে উৎপাদন বাড়াতে টেকসই করতে হবে পোলট্রি শিল্প। বাংলাদেশকে আমরা একটি পুষ্টিসমৃদ্ধি দেশ হিসাবে দেখতে চাই। আর পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশ গড়তে এ শিল্পের উন্নয়নের বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া ১৩তম আন্তর্জাতিক পোলট্রি সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওয়ার্ল্ড’স পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করছে। এ শিল্পের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো কিভাবে মোকাবিলা করা যাবে সে বিষয়ে ৮৮টি দেশি-বিদেশি টেকনিক্যাল পেপার উপস্থাপন করা হয় এই সেমিনারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়াপসা-বিবি’র সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশ হিসেবে দেখতে চাই। তাই অভিধান থেকে ‘অপুষ্টি’ শব্দটি মুছে ফেলতে হবে। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাগুলোই আগামীর বাংলাদেশ, আগামীর পৃথিবী গড়তে সহায়ক হবে।’
তিনি বলেন, ‘ভোক্তাদের ধারণা পোলট্রিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে এখন প্রচুর পরিমাণে প্রিবায়োটিক, প্রোবায়োটিক, ফাইটোজেনিক, এসেনশিয়াল ওয়েল ব্যবহৃত হচ্ছে।’
ওয়াপসা-বিবি’র সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক বলেন, ‘পোলট্রি বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক পোলট্রি বিজ্ঞানকে প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন সমাধান উপহার দিচ্ছেন। বিগত ২৮ বছর ধরে ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখা- ব্যবসা ও বিজ্ঞানের মাঝে সম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি করেছে। বিজ্ঞানী-গবেষকদের কাজ কখনো শেষ হয়ে যায় না। কারণ প্রতিটা দিনই এক একটা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। জরাজীর্ণতাকে কাটিয়ে নতুন এক সম্ভাবনাময় দেশ গড়ার ডাক এসেছে আমাদের সবার জন্য।’
সেমিনারের গবেষক ও বক্তারা বলেন, ‘খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা না থাকলে কাউকেই পোলট্রি খামারের নিবন্ধন দেওয়া ঠিক হবে না। খামারিদের বুঝাতে হবে একের অসতর্কতা অন্যের ক্ষতির কারণ। এভাবেই পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এন্টিবায়োটিক ও ওষুধের ব্যবহার বাড়ার ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।’
তারা বলেন, যেভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে, জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে; তাতে নতুন নতুন রোগ-বালাই দেখা দিচ্ছে। আগামীতে বিজ্ঞানীদের কাজ আরও অনেক বাড়বে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু, খরা সহিষ্ণু ধানের মত স্ট্রং ইমিউনিটি সম্পন্ন মুরগির জাত উদ্ভাবন করতে হবে।’
বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই উৎপাদন বাড়াতে হবে। কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইন্ডাষ্ট্রি বড় হচ্ছে তাই রিসাইক্লিং-এর কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকার এ ধরনের শিল্প স্থাপনে প্রণোদনা ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে পারেন।’
প্রথম দিনের অনুষ্ঠিত সেশনগুলোতে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইউজিসি প্রফেসর ড. এস.ডি চৌধুরি, বাকৃবি’র সাবেক উপাচার্য্য প্রফেসর ড. এমদাদুল হক চৌধুরী, বিএলআরআই এর সাবেক চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মো. গিয়াসউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মেম্বার ডিরেক্টর ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বাকৃবি’র প্রফেসর ড. কে.এম. সাইফুল ইসলাম এবং প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী।
কো-চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এ.টি.এম মাহবুব-ই-এলাহী, প্রফেসর ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বাকৃবি’র প্রফেসর ড. সুকুমার সাহা, প্রফেসর ড. মো. গোলজার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা. বয়জার রহমান, পরিচালক উৎপাদন ড. এ.বি.এম খালেদুজ্জামান এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ড. মো. সাজেদুল করিম সরকার সহ আরও অনেকে।
সারাবাংলা/ইএইচটি/এইচআই