রাবি ক্যাম্পাসে বেড়েছে মশার উপদ্রব, নিধন সক্ষমতা নেই প্রশাসনের
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:০০ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:১৫
মশার বংশবিস্তারে উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ছবি: সারবাংলা
রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে (রাবি) ব্যাপকহারে বেড়েছে মশার উপদ্রব। দিনে-রাতে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কক্ষ, আবাসিক হল, বিভিন্ন আড্ডা পয়েন্ট এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষগুলোতেও বেড়েছে মশা। তবে মশার এ উপদ্রব প্রকট আকার ধারণ করলেও নিধনের সক্ষমতা নেই বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের প্রায় সব জায়গাতেই মশার উপদ্রব লক্ষনীয়। আবাসিক হলের কক্ষগুলোতে সার্বক্ষণিক মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। গোসলে ঢুকলেও রক্ষা মেলে না মশার কামড় থেকে। টয়লেটে যেতে হলে সঙ্গে নিতে হয় মশার কয়েল। পরিবহন চত্বর ও টুকিটাকি চত্বরের মতো আড্ডা পয়েন্টগুলোতে মশার কামড়ে দিনের বেলায়ও স্থির হয়ে বসে থাকা যায় না। এছাড়া একাডেমিক ভবনের শ্রেণিকক্ষে বসাও দায় হয়ে পড়েছে।
তবে বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না দেখে ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব প্রতিনিয়ত বাড়লেও প্রশাসন তাতে নিরব। প্রতিবছর মশা নিধনের জন্য ফগার মেশিনে স্প্রে করা হলেও এই বছর এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বর্তমান প্রশাসন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন এবং রাস্তাগুলোর পাশে পয়ঃনিষ্কাশনের নালায় জমে থাকা স্বল্পপানির সঙ্গে বর্জ্য মিশে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবহন চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, বিভিন্ন খেলার মাঠ, বিভিন্ন জলাশয়ের পাড় ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপে জমে থাকা বর্জ্যে মশা ভনভন করছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মশা অত্যাধিক লার্ভা ছেড়ে বংশবিস্তার করছে।
শহিদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী কেরামত উল্লাহ বলেন, ‘গত তিন বছরে আমি মশার এতো উপদ্রব দেখিনি। দিনের বেলায়ও একটু বসে থাকা যায় না। রুমে ঢুকলে সারাক্ষণ মশারির ভেতরেই থাকতে হয়। আর বাথরুম, টয়লেটে জরুরি কাজ সারতে গেলে এমন অবস্থা হয় যে হাতে করে কয়েল নিয়ে যেতে হয়। শ্রেণিকক্ষেও একই অবস্থা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। এরকম চলতে থাকলে মশার কামড়ে গণহারে ডেঙ্গুজ্বর শুরু হবে। হলে থাকাই হয়তো দায় হবে।’
মন্নুজান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আকলিমা জাহান বলেন, ‘কয়েকমাস হলো হলে উঠেছি। মেসে থাকাবস্থায় বুঝতে পারিনি রাজশাহীতে এতো মশা থাকতে পারে। হলের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মশারির ভেতরে ঢুকে পড়াশোনা করে। বাহিরে দোকানে বসলে মশা ঘিরে মশা এমনভাবে ঘিরে বসে যে স্থির থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মশা নিধনের দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে হলের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়বে।’
জানতে চাইলে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, আশে পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ অথবা ডাবের খোলস বা এজাতীয় কিছু যদি পানি ভর্তি থাকে তাহলে মশার উপদ্রব বাড়তে পারে। এছাড়া ব্যাঙ না থাকা ও মশা নিধনের যদি ওষুধ না ছিটানোর কারণেও বাড়তে পারে।’
মশা থেকে পরিত্রাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মশা নিধন ওষুধ ছিটাতে পারে তাহলে এটাকে কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে সপ্তাহে ৩-৪ বার ওষুধ ছিটাতে হবে, কেননা বেশি দেরিতে ছিটালে হয়তো এই সময়ের ভিতরে মশা ডিম পেড়ে বাচ্চা করে ফেলবে। তাই ঘনঘন মশা নিধনকারী ওষুধ স্প্রে করলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।’
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে যেধরনের সক্ষমতা দরকার সেটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত সেহেতু এই কাজ সিটি কর্পোরেশন করে থাকে। আমরা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করেছি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি। তবে তারা সাড়া দিলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।’
সারাবাংলা/এসআর
নিধন সক্ষমতা নেই মশার উপদ্রব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাবি রাবি ক্যাম্পাস সারাবাংলা