৪ মৃত ইসরায়েলি জিম্মির বদলে ৬০০ ফিলিস্তিনি মুক্তি
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৪:৩১ | আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৫:৩২
পশ্চিম তীরের রামাল্লাহর কাছে ইসরায়েলি সামরিক কারাগারের ওফেরের বাইরে একটি বাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দিরা। ছবি: সংগৃহীত
হামাস গাজা থেকে চারজন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করার পর ইসরায়েল বৃহস্পতিবার ৬০০-র বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে তারা ৭ অক্টোবর ২০২৩ হামলায় অপহৃত ৮৬ বছর বয়সী শ্লোমো মনসুর, ৫০ বছর বয়সী ওহাদ ইয়াহালোমি, ৫০ বছর বয়সী সাচি ইদান এবং ৬৯ বছর বয়সী ইৎজিক এলগারাট।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের পশ্চিম তীর ও গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের হাজারো উচ্ছ্বসিত মানুষ স্বাগত জানায়।
এটি চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের চূড়ান্ত বন্দি বিনিময়। চুক্তির এই পর্যায়ের মেয়াদ শনিবার (১ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েল-গাজা সীমান্তের কাছাকাছি মরদেহগুলোর প্রাথমিক ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরে সেগুলো তেল আবিবের ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয় বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এর আগে, গত সপ্তাহে হামাস ভুল করে এক ফিলিস্তিনি নারীর মরদেহ ইসরায়েলে হস্তান্তর করেছিল, যা আসলে অপহৃত ইসরায়েলি নারীর মরদেহ হওয়ার কথা ছিল। পরে হামাস তাদের ভুল স্বীকার করে সঠিক মরদেহ হস্তান্তর করে।
এইবারের বন্দি হস্তান্তরে ছিলনা কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। আগের বিনিময়গুলোতে হামাসের আয়োজিত প্রকাশ্য অনুষ্ঠান নিয়ে ইসরায়েল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল এবং এমনকি আগের সপ্তাহে নির্ধারিত বন্দিদের মুক্তিতে বিলম্ব করেছিল।
মুক্তিদের মধ্যে ৪০০-এর বেশি গাজাবাসী রয়েছেন, যাদের যুদ্ধের সময় আটক করা হয়েছিল, পাশাপাশি ৫০ জন আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিও রয়েছেন। তাদের ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের কেতসিওত কারাগার ও ওফার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এই বন্দি বিনিময়ের পর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি এখনো শুরু হয়নি। এই পর্যায়ে হামাসের হাতে থাকা জীবিত জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে আরও ফিলিস্তিনি বন্দি ছাড়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে জিম্মি বিনিময় নিয়ে চলা অচলাবস্থা কাটে।
সারাবাংলা/এনজে