Saturday 29 Mar 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সেনা সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ, বিএনপির ৩ নেতাকর্মী আটক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৫ ১৬:৫০ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৫ ১৮:৩৮

বরিশালে সেনা সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার এনপির ৩ নেতাকর্মী আটক করা হয়

বরিশাল: জেলার বালুমহাল ইজারার দরপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাফর নামে একজন সেনা সদস্যকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অপহরণ হওয়া সেনা সদস্যের চাচা আ. মতিন কাজী।

এর আগে সোমবার (২৪ মার্চ) রাতে নগরীর রিচমার্ট আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত সেনা সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। তখন হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতিসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে তুলে দেয় সেনাবাহিনী। এরা হলেন- বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন (৪২), বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নূর হোসেন সুজন (৩৫) ও হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার (৩৫)।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলায় জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদককে আসামি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিসি ভবনে রিচমার্ট হোটেল থেকে আটক ৩ জনকে মঙ্গলবার থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী মতিন কাজীর ব্যবসায়িক অংশীদার ও মামলার ২ নম্বর সাক্ষী আব্দুল বাসেত জানান, বালুমহাল ইজারা নিতে সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে দরপত্র জমা দিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় যান তারা। এতে বাধা দেন আসামিরা। জোর করে দরপত্র জমা দিলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে আসামিরা মতিনের ভাতিজা সেনা সদস্য জাফরকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অপহরণ করে লঞ্চঘাট এলাকায় রিচমার্ট হোটেলের ৩১০ নম্বর কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল পরিচয় দেয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার, আইফোন এবং নগদ টাকা কেড়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানোর পর সেনাবাহিনী রিচমার্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে।

বিজ্ঞাপন

মামলার সাক্ষী বাসেত আরও জানান, ১৩ কোটি টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মেঘনার বালুমহাল তারা ইজারা পেয়েছেন।

তবে মামলার অন্যতম আসামি মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক ফরিদা বেগম জানান, মেঘনার বালুমহালের বিপরীতে ৩৩টি দরপত্র বিক্রি হয়েছিল। বাসেত ও মতিনের ভাড়াটিয়া গুণ্ডাদের বাধায় অন্যরা জমা দিতে পারেননি। মতিনরা দুটি দরপত্র জমা দিয়ে ওই বালুমহাল বাগিয়েছে।

সারাবাংলা/আরএস

বরিশাল বিএনপির ৩ নেতাকর্মী আটক সেনা সদস্যকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ