ঈদের ২য় দিনে পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা
১ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৩২
পটুয়াখালী: ঈদের দ্বিতীয় দিনে নানা বয়সের হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সকাল থেকেই দর্শনার্থী ও পর্যটকের থেমে নেই আনন্দ। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে সমুদ্র সৈকতে।
আগত এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সমুদ্রের নীল জলে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে দিনটি উপভোগ করছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্র ও প্রকৃতি। সৈকতে হই হুল্লোড়, ছুটাছুটি, ফুটবল খেলা যেন আনন্দের কমতি ছিল না। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসব মেতে ওঠেন আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা।
কুয়াকাটার কুয়া, সৈকতের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার, শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, টুরিস্ট বোটের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ, রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলা ঘুরে বেড়ান এসব পর্যটকরা।

সাগর কন্যার পাড়ে বসে খেলায় মেতেছে দুই শিশু পর্যটক। ছবি: সারাবাংলা
ঈদের দ্বিতীয় দিন আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর ৮০ শতাংশ কক্ষই বুকিং ছিল বলে জানিয়েছেন হোটেল মোটেল কর্তৃপক্ষ। ১৫ দিন আগে থেকেই অনেকে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখেন। খাবার হোটেল গুলোতেও খাবারের জন্য লাইন পরে যায়।
রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মাকের্ট, মিশ্রিপাড়া তাঁত পল্লী সবখানই কেনাকাটায় ভিড় লেগে যায়। ফিস ফ্রাইয়ের দোকানও সিরিয়াল দিয়ে কাকড়া, চিংড়িসহ নানা ধরনের সমুদ্রের মাছ খেতে দেখা গেছে। আগত এ সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের সতর্কতা ছিল চোখে পড়ার মত।

সৈকতের পাড়ে বসে সাগরের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সারাবাংলা
রমযানের একমাস পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটিয়েছেন। গত এক মাস লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঈদের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে কর্মব্যস্ততা ফিরে এসেছে।
খুলনা থেকে আসা রাকিব আহমেদ বলেন, ‘বন্ধুদের নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কুয়াকাটায় এসেছি। এবার সৈকতের পরিবেশ আরও ভালো লেগেছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, ‘এবারের ঈদে দীর্ঘ ছুটির কারণে পর্যটকের ব্যাপক চাপ। অনেকে ১৫ দিন আগেই অগ্রিম বুকিং করে রেখেছেন। প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে।’
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ বলেন, ‘এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে। তবে ঈদের দিন স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশি। আজ থেকে ভিআইপি পর্যটকদের আগমন বেশি।’
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, আগত এসব পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ, মহাসড়কে আগত পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে টহল থাকবে।
বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখতে আমরা নানা উদ্যোগ নিয়েছি। সৈকতের পরিবেশ সুন্দর রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’
সারাবাংলা/এসডব্লিউ