হঠাৎ কুয়াশায় মনে হলো শীত বুঝি আবার এলো!
২ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:০৩ | আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৫ ২০:৫৬
পঞ্চগড়: হিমালয়কন্যা বা শীতের জেলা নামে খ্যাত পঞ্চগড়। এই জেলা থেকে শীত ধীরে ধীরে বিদায় নিলেও প্রকৃতিতে হঠাৎ-ই ঘন কুয়াশার উপস্থিতি। আর এমন ঘন কুয়াশার উপস্থিতি দেখে মনে হয় ফের বুঝি শীত এলো। চৈত্রের শেষে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল প্রকৃতিতে বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তুলেছে।
বুধবার (২ মার্চ) মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত এমন ঘন কুয়াশার দেখা মেলে পুরো জেলাজুড়ে। এদিন সকাল ৬টায় জেলার তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষেণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৩ ঘণ্টার ব্যাবধানে তাপমাত্রা কমে ৯টায় রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এমন আবহাওয়ায় মনে হয়ে শীত বুঝি আবারও এলো। ছবি: সারাবাংলা
এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যরাত থেকে কুয়াশা আচ্ছাদিত থাকায় সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্ন ঘটে, যা সকাল ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পথ-ঘাট, সড়ক-মহাসড়ক কুয়াশায় ঢেকে থাকায় যানবাহন চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
পঞ্চগড়ে প্রতিবছর শীতের আগমন অক্টোবরের মাঝমাঝি। বিদায় নেয় পরের বছরের মার্চের দিকে। তবে তখনও শীত কিছুটা রয়ে যায়। কিন্তু কুয়াশার একেবারেরই দেখা মেলে না। সেখানে আজ হঠাৎ করেই প্রকৃতিতে ধরা দিল কুয়াশা। অপরদিকে দিনের বেলা আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম থাকলেও রাতে শীতল পরিবেশ বিরাজ করে এ জেলায়।

কুয়াশা সকালে জনমানবশূন্য সড়ক। ছবি: সারাবাংলা
এ নিয়ে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারের ভ্যানচালক আব্দুল বাসেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ভোর হলেই ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। সকালে ভ্যান চালানোর সময় একটু ঠান্ডা লাগলেও আজ হঠাৎ দেখি সব কুয়াশায় ঢাকা। এই সময় বৃষ্টি হওয়ার কথা, অথচ কুয়াশা দেখে মনে হচ্ছে- শীতকাল নতুন করে এলো।’
কুয়াশা নিয়ে কথা হয় দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ এলাকার ওয়াসিম একরামের সঙ্গে। সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘মধ্যরাত থেকে কুয়াশা পড়া শুরু হয়েছিল। মোটরসাইকেল চালানোর সময় সামনের কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পরে ভোর হতে কুয়াশার পরিমাণও বেড়ে যায়। হঠাৎ এমন কুয়াশা দেখে নিজেও অবাক হয়েছি।’

কুয়াশায় কমে যায় দূরত্বের সীমানা, তাই যান চলাচলে ঘটে ব্যাঘাত। ছবি: সারাবাংলা
একই কথা বলেন জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার আশরাফ আলী। তার ভাষ্য, ‘আমাদের এলাকায় দিনে প্রচণ্ড গরম ও রোদ থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শীতল আবহাওয়া বিরাজ করে। রাতে ঘুমালে এখনও প্রায় পাতলা কাঁথা বা কম্বল প্রয়োজন পড়ে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
সারাবাংলা/পিটিএম