ঈদের ৩য় দিনেও পঞ্চগড়ে পর্যটকদের ভিড়, দর্শনীয় স্থানগুলো সংস্কারের দাবি
২ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:৩৯
পঞ্চগড়: দেশের অন্যতম পর্যটন স্থান উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকৃষ্ট করেছে পর্যটকদের। তাই ঈদের তৃতীয় দিনও নানা বয়সী মানুষ ও পর্যটক ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব দর্শনীয় স্থানে।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাক বাংলো ও পিকনিক কর্নারে পর্যটকদের এমন সমাগম ও উপস্থিতি দেখা যায়। অনেকেই এসেছেন বন্ধু-বান্ধব, স্ত্রী -সন্তান, পরিবার-পরিজন নিয়ে।
তবে পর্যটকরা বলছেন, এইসব দর্শনীয় স্থানগুলোর যদি আরও উন্নয়ন হয়,সংস্কার করা হয় এবং আকর্ষণ বাড়ানো যায় তাহলে এগুলো আরও বেশি আকৃষ্ট করবে পর্যটকদের।
এ বিষয়ে কথা হয় বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা আয়মান আসিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল যোগে ডাকবাংলোয় ঘুরতে এসেছি। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক মজা করছি। তবে এই ডাক বাংলোর পরিবেশ যদি আরও উন্নত করা হতো তাহলে অনেক সৌন্দর্য প্রকাশ পেতো।’

ঈদে পঞ্চগড়ের দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকেরা। ছবি: সারাবাংলা
এদিকে একই কথা বলেন লিটন ইসলাম নামে আরেক পর্যটক। তিনি বলেন, ‘বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতলে চা বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি বন্ধুদের সঙ্গে। ঈদের দিন ঘুরতে গিয়েছিলাম মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বারো আউলিয়ার মাজারে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে এখন এদিকে ঘুরতে আসছি।’
ব্যস্ততার মাঝেও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে আসা ইমন -সোমা দম্পতি বলেন, ‘শুধু ঈদ আসলেই আমরা একটু ঘোরাঘুরির সময় পাই। কিন্তু ঈদের দিন পরিবার ও পরিজনকে সময় দেওয়া ও বাড়িতে মেহমান আসার কারণে আমরা বের হতে পারিনি। তাই আজকে ঈদের দিন বের হয়েছি বেড়ানোর জন্য। বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখছি।’
এদিকে ঈদ আসলে আয় বাড়ে ভ্যান, ইজিবাইক, থ্রি হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। এ সময় প্রচুর পরিমাণে পর্যটক পরিবহন করেন তারা। যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে তাদের। দীর্ঘ এক মাস পর্যটক না আসায় দর্শনীয় স্থানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আর এসব দর্শনীয় স্থানে যখনই কোন পর্যটক আসছে তখনই এইসব যানবাহনের চালকরা বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বন্ধু, পরিবার নিয়ে ঈদ আনন্দ উদযাপনে ব্যস্ত পর্যটকেরা। ছবি: সারাবাংলা
কথা হয় জেলা শহরের অটোচালক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রমজান মাসে এক মাস বেকার সময় পার করেছি। কিন্তু ঈদের দিন থেকে অটো নিয়ে বের হয়ে পড়ি। রাস্তাঘাটে শহরে মানুষজন বের হয়। তাদের অটোতে পরিবহন করে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালাচ্ছি। অনেকে খুশি হয়ে বোনাসও দিচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবেত আলী বলেন, ‘পর্যটকরা যেন কোন প্রকার হয়রানী বা সমস্যায় না পড়ে তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্প নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন পার্ক। বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসছেন এবং পঞ্চগড়ের পর্যটন এলাকাগুলো ঘুরে দেখছেন।’
উল্লেখ্য, পঞ্চগড় জেলার ভিতরগড়ের প্রাচীন মহারাজা দিঘী, আটোয়ারীর ঐতিহ্যবাহী মির্জাপুর শাহী মসজিদপাড়া, বারো আউলিয়ার মাজার শরীফ, বটেশ্বরী মন্দির, মিরগড়ের কাঠের সেতু, শুকানীর লোহার সেতু, হিমালয় বিনোদন পার্ক, তালমার রাবার ড্রাম, তেতুলিয়ার ঐতিহাসিক জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, তেতুলিয়ার পিকনিক কর্নার, তেঁতুলিয়া ইকোপার্ক, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতলের চা বাগান, তেতুলিয়া বাইপাস সড়কের ভারতীয় পিলার ও সমতলের চা বাগান,রওশনপুর মীনা বাজার,আনন্দধারা, আনন্দগ্রামসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব পর্যটকরা। উপভোগ করছেন মনোমুগ্ধকর এসব পরিবেশে। এছাড়া নতুনভাবে মাত্রা যোগ করেছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মিরগড় এলাকায় করতোয়া সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক।
সারাবাংলা/এসডব্লিউ