গাজার নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৩:১১ | আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০২৫ ১৫:৩৫
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তার দেশ গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে এবং নতুন নিরাপত্তা করিডোর তৈরি করে অঞ্চলটিকে বিভক্ত করবে। এই ঘোষণার পর ইসরায়েল গাজায় বিমান ও স্থল হামলা আরও বাড়িয়েছে।
বুধবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আজ রাত থেকে আমরা গাজায় নতুন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছি। ইসরায়েলি বাহিনী ভূখণ্ড দখল করছে, সন্ত্রাসীদের আঘাত করছে এবং তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করছে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা ‘মোরাগ রুট’ দখল করছি, যা হবে দ্বিতীয় ফিলাডেলফি রুট। কারণ, আমরা গাজার বিভাজন শুরু করেছি এবং ধাপে ধাপে চাপ সৃষ্টি করছি, যাতে আমাদের জিম্মিদের ফেরত পাওয়া যায়।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন গিশার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল গাজার ৬২ বর্গকিলোমিটার (১৭ শতাংশ) এলাকা দখল করেছে। নেটজারিম করিডোর ইতোমধ্যে গাজা শহরকে দক্ষিণ অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিশাল এলাকা দখল করবে, যা ব্যাপক বেসামরিক স্থানান্তর ঘটাবে। তবে ইসরায়েল ঠিক কতখানি এলাকা দখল করতে চায়, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি।
বুধবার (২ মার্চ) রাতে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফায় বিমান হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় ১৯ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৯ জন শিশু ছিল।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, হামলায় তাদের ধ্বংস হওয়া একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রথম তলার দুটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১৬০টি বাস্তুচ্যুত পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা জাবালিয়ার হামাস নিয়ন্ত্রিত একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনা পর্যালোচনা করছে।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করে, যা দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পরবর্তী বড় ধাপে পরিণত হয়। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে গাজার ৯০ শতাংশ জনসংখ্যা (প্রায় ২৩ লাখ) বারবার বাস্তুহারা হয়েছে।
ইসরায়েলের অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা এই যুদ্ধের সবচেয়ে দীর্ঘকালীন অবরোধ।
সারাবাংলা/এনজে