সরু রেলগেইট যেন ৫ জেলার মানুষের জন্য পথের কাঁটা!
৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:০০ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০২৫ ০৪:১৩
নওগাঁ: জেলার রাণীনগরের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে রেলগেইট। বিশেষ করে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ও রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ সড়ক দুটি প্রশস্ত করা হয়েছে। ফলে এই দুটি সড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল কয়েকগুণ বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় রেলগেইট বন্ধ করার কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই যানজটের কবলে পড়ে প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি জেলার মানুষদের।
উত্তরবঙ্গের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীসহ বগুড়ার কিছু অঞ্চলের মানুষ বর্তমানে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। ফলে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই কয়েক হাজার ছোট-বড় যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া, প্রতিদিনই উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর সঙ্গে যোগাযোগকারী যাত্রী ও মালবাহী ছোট-বড় ৩০টি ট্রেন চলাচল করে। ফলে সরু রেলগেইটের কারণে দিনের সিংহ ভাগ সময়ই ট্রেন চলাচলে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে ঈদের সময় চারদিক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে এবং ট্রেন চলাচলের সময় সরু রেলগেইট বন্ধ থাকার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের। এতে করে যানজটের শিকার হয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার পথচারীদের শত শত কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় তীব্র যানজটের কারণে স্থানীয়রা ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে। দ্রুতই সড়কের মতো রেলগেইট ও রেলস্টেশন মোড়ে আধুনিকতার ছোঁয়ার মাধ্যমে প্রশস্তকরণ বর্তমানে সময়ের দাবি।
উপজেলার কালিকগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান বলেন, ‘বিভিন্ন কাজ করতে উপজেলা পরিষদে যেতে কিংবা জরুরি কোনো রোগীকে উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে রেলগেইট পার হতে হয়। ফলে রেলগেইটে এসে যানজটে আটকে পড়ার কারণে অনেক রোগীকে মৃত্যুবরণও করতে হয়েছে। যাতায়াতের অধিকাংশ সময়ই সরু রেলগেইটে এসে যানজটের কবলে পড়তে হয়। আর ঈদের সময় এসে যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় যানজটের শিকার হতে হচ্ছে। রেলগেইটের দুই পাশের মহাসড়ক ও সড়কে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও সরু রেলগেইটের কারণে তার কোনো সুফল মিলছে না।’

সরু রেলগেইট যেন মানুষের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
একডালা গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল বলেন, ‘সরু রেলগেইট বর্তমানে আমাদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। যখন ট্রেনের কারণে গেইট বন্ধ থাকে তখন দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক জুড়ে যানবাহনের জট লেগে যায়। বিশেষ করে সরু রেলগেইটের পাশ দিয়ে একজন মানুষ কিংবা সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এমন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুতই রেলগেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত ভবন ও দোকানগুলো ভেঙ্গে রেলগেইটের সড়ক ও মোড় বড় করার কোনো বিকল্প নেই।’
রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী মাস্টার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাণীনগরের ওপর দিয়ে দিনের বেলায় ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলে ১৬টি ট্রেন, আর রাতের বেলায় ১৪টি ট্রেন চলাচল করে। এ ছাড়া, মালবাহী বিভিন্ন ট্রেনতো আছেই। বিশেষ করে দিনের বেলায় ট্রেন চলাচলের সময় ছোট্ট রেলগেইটটি অধিকাংশ সময়ই বন্ধ রাখতে হয়। এতে করে গেইট পার হওয়ার সময় ব্যস্ততম দু’টি সড়ক ও মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই বিষয়টি আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘দুটি ব্যস্ততম সড়কের মাঝে সরু রেলস্টেশন ও রেলগেইট মোড় এই দুটি কারণে উপজেলাবাসীর দ্রুত চলাচলে প্রতিনিয়তই বিঘ্ন ঘটছে। অধিকাংশ সময় উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্বপ্রান্তে যেতে রেলগেইট এলাকায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের শিকার হতে হয়। এই দুটি মোড়কে প্রশস্তকরণ করে কীভাবে যানজট মুক্ত করা যায় সে বিষয়ে রেল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্রুতই যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল হক রাসেল বলেন, ‘রাণীনগরের ওই দুটি মোড় প্রশস্ত করার মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা খুবই জরুরি। প্রতিদিনই কেউ না কেউ যানজট নিয়ে ফোন করে। এ ছাড়া একদিক থেকে অপর দিকের রাস্তার কোনো অংশ দেখতে না পাওয়ার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমন সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন রেল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে জায়গাটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা রেলগেইট প্রশস্তকরণ কাজ শুরুর প্রকল্প নিতে পারি।’
সারাবাংলা/পিটিএম