Saturday 28 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তাহলে কি সরকারি চাকরিজীবীরাই ঘুষখোর, বাকীরা সাধু!

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৬ ২০:২১

দেশে বিদেশে সবার মধ্যেই একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত যে, ঘুষখোর মানেই সরকারি চাকরিজীবী। আর সরকারি চাকরিজীবী মানেই ঘুষখোর। বেশির ভাগ সরকারি চাকরিজীবী সৎ থাকলেও কেউ তাদের বিশ্বাস করতে চায় না। আবার টিটকারি করে বলা হয়, তারা সুযোগের অভাবে সৎ থাকেন। সুযোগ পেলে তারাও খুষ নিতেন। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের সমাজে বাকা চোখে দেখা হয়। তাদের নিয়ে নানান সমালোচনা করা হয়। কিন্তু আসলে কি বিষয়টা তাই? বাকী সবাই কি সাধু?

আজকের আলোচনার বিষয় হলো সমাজের কম বেশি সবাই ঘুষখোর! কিভাবে আসুন জেনে নেই…

ধরুন একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা ভ্যানে করে প্রতিদিন পেঁয়াজ বিক্রি করেন। ৪০ টাকা কেজি বি্ক্রির পর, দিন শেষে অর্ধেক পেঁয়াজ থেকে গেলো। পরদিন প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টিতে আর দোকান দিতে পারলেন না। তৃতীয় দিন বাজারে গিয়ে দেখেন পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। এখন ওই ব্যবসায়ী কি ৪০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবেন নাকি ৭০ টাকায় বিক্রি করবেন। তিনি ৭০ টাকা কেজিতেই পেঁয়াজ বিক্রি করবেন। এক্ষেত্রে তার অপরাধটা সমাজের চোখে প্রতিষ্ঠিত হলো না। যে সরকারি চাকরিজীবী ২০০/৫০০ ঘুষ নেন তার যে অপরাধ এই পেঁয়াজ বিক্রেতারও একই অপরাধ। অথচ সমাজে সেটি আলোচিত সমালোচিত হচ্ছে না। পেঁয়াজ বিক্রেতার মতো সবজিওয়ালা, ফল দোকানদার, তরমুজ বিক্রেতা ও মুদি দোকানদার যারাই বেশি টাকা নিচ্ছে তারা ‍ঘুষখোরের মতোই সমান অপরাধী। সমাজের উচিত এদেরও সমান সমালোচনা করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

দেশের সংকটকালে সয়াবিল তেল মজুদ করে যারা বেশি দামে বিক্রি করেন, তারা কি ঘুষখোর নন? তারা কি ঘুষখোরের মতো অপরাধ করলেন না? যে মসলার বাজারকে সিন্ডিকেট করে অস্থিতিশীল করে তোলে সে কি কম অপরাধী? যে গরুর মাংস কম দিয়ে বেশি টাকা নিচ্ছেন কিংবা মাংসে পানি মিশিয়ে ওজনে কারচুপি করছেন সে কি কম ঘুষখোর বিবেচিত হবে?

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। এ অবস্থায় সারাদেশে জ্বালানি তেল মজুদের হিরিক চলছে। অভিযানে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করছে প্রশাসন। কোথাও এক লিটার অকটেন বা পেট্টোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার কোথাও ৭৫০ মিলি লিটার অকটেন বা পেট্টোল ৪০০ টাকা নেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। মুদি দোকানদারাও তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করার খবর গণমাধ্যমে আসছে। এরা কি ঘুষখোরের মত অপরাধী নন?

যিনি অঙ্গহানি করে মিথ্যা কথা বলে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন তিনি কি ঘুষখোরের মতো অপরাধী নন? যিনি একটি ভুয়া প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে চিকিৎসার নামে টাকা তুলছেন তিনি কি ঘুষখোর নন?

ঈদে কিংবা বড় কোনো উৎসব উপলক্ষ্যে বাস ট্রেন লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বাড়ে। এসময় মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই গুন তিন গুন ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে। আবার কোথাও চারগুনও ভাড়া আদায় করা হয়ে থাকে। এক হাজার টাকার ভাড়া ২৫০০ বা ৩০০০ টাকা আদায় করা হলো। এতে পরিবহন মালিকরা কি ঘুষখোরের বাইরে থাকলেন? ঘুষখোরের মত সমান অপরাধী পরিবহন মালিকরাও।

ঈদ ও অন্যান্য উৎসব অথবা বৃষ্টির দিনে ঢাকা শহরে রিকশা ও সিএনজিচালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ১০০ টাকার ভাড়া ২০০/৩০০ টাকা নেন আবার কোথাও তারও বেশি আদায় করেন। এটা কি ঘুষখোরের মতো অপরাধ কিনা? সমাজের চোখ এদের দিকে কেন অভিযোগ করে না। সমাজের চোখ কি শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের দিকে?

এসব তুলনা করে আমি সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ নিচ্ছি তা নয়। আমি শুধু সবার অপরাধটা ঘুষখোরের মতো সমান অপরাধ সেটা বুঝাতে চেয়েছি। যারা ঘুষ নেন তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক। কিন্তু আইনের ফাঁক ফোঁকর এতটাই দুর্বল যে, সেখানেও ঘুষ দিয়ে ঘুষখোরেরা পার পেয়ে যান। এসব বন্ধ হোক সবার আগে।

যারা চাঁদা আদায় করছেন তারাও কি কম অপরাধী? নাকি ঘুষখোরের চেয়ে কম? যারা মাদক বিক্রি করছেন তারা কি অপরাধী নন? তারাও সমান অপরাধী।

সবশেষে একটাই কথা, সমাজ থেকে ঘুষ বন্ধ হোক। মাদক বন্ধ হলে যুব সমাজ রক্ষা পাবে। সব ধরণের অন্যায় বন্ধ হলে সমাজে হানাহানি হিংসা বিদ্বেষ বন্ধ হবে। এক্ষেত্রে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো একটি শ্রেনি এগিয়ে আসলে চলবে না।

কে আগে এগিয়ে আসবেন?

আপনি আর আমি…

লেখক: স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, সারাবাংলা ডটনেট

সারাবাংলা/ইউজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর