Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আমাদের তরুণ প্রজন্ম কি এক রূপক অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে?

ড. আরমানুল হক
২৪ মে ২০২৬ ১৯:৪০

আজকের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ, হিংসা, অপরাধপ্রবণতা এবং আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ আচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কিন্তু কেন?

আসুন একটু গভীরভাবে ভেবে দেখি এবং সমাধানের পথ খুঁজি …

আজকের দিনে চারপাশে তাকালেই দেখা যায় আমাদের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে হতাশা, হঠকারী রাগ, পরশ্রীকাতরতা, অপরাধপ্রবণতা, এমনকি আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। একটু গভীরে চিন্তা করলে বুঝবেন, এর পেছনে কোনো একক কারণ নেই; বরং আমাদের পুরো জীবনযাত্রার একটা বড় ব্যর্থতা লুকিয়ে আছে।

সংকটের মূল কারণগুলো কী?

খেলার মাঠ ও শারীরিক ব্যায়ামের অভাব: চারদিকে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা নেই। ফলে শারীরিক কসরত বা খেলাধুলার সুযোগ একদম বন্ধ। আমরা সুস্থ শিশু নয়, বরং ‘স্থূলতা’ (Obesity) উৎপাদন করছি।

বিজ্ঞাপন

স্মার্টফোনের আসক্তি: দিন-রাত স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা তরুণদের মানসিক ভারসাম্য ও ধৈর্য্য কেড়ে নিচ্ছে।

আধ্যাত্মিক ও নৈতিক অবক্ষয়:নিয়মিত প্রার্থনা বা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে না চলায় মনের ভেতর যে প্রশান্তি দরকার, তা তারা পাচ্ছে না।

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা

বন্ধু, পরিবার বা প্রতিবেশীদের সাথে আজ কোনো আত্মিক যোগাযোগ নেই। সবাই এক ছাদের নিচে থেকেও যেন একেকটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।

সমাধানের পথ: আমাদের যা যা করা জরুরি

যদি আমরা আমাদের সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে চাই, তবে এখনই সামাজিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক…

১. বিদ্যালয় স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:

খেলার মাঠ ও সরঞ্জামের নিশ্চয়তা: প্রতিটি স্কুলে পর্যাপ্ত খেলাধুলার সরঞ্জাম থাকতে হবে এবং নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে।

অতিরিক্ত সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম (Extra-curricular activities): শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বিতর্ক, গান, ছবি আঁকা ও স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রমে জোর দিতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট (Clinical Psychologist) থাকা উচিত, যিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করবেন।

পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা: প্রতিদিন স্কুলে অন্তত একটি পিরিয়ড রাখা উচিত, যা শুধু পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়ার জন্য বরাদ্দ থাকবে।

২. পারিবারিক দায়িত্ব (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

প্যারেন্টিংয়ে পরিবর্তন: আমরা অভিভাবকরা নিজেরা সারাদিন ফোনে মগ্ন থেকে সন্তানকে স্ক্রিনমুক্ত থাকার উপদেশ দিতে পারি না।

কোয়ালিটি টাইম: সন্তানদের ডিভাইস সরিয়ে রেখে পর্যাপ্ত সময় দিন, তাদের কথা শুনুন, বন্ধু হন।

৩. স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটির ভূমিকা

কমিউনিটি স্পেস ও খেলার মাঠ: প্রতিটি এলাকায় তরুণদের জন্য খেলার মাঠ বা কমিউনিটি স্পেস তৈরি করতে হবে।

আঞ্চলিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা: স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে নিয়মিত এলাকাভিত্তিক খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে।

কমিউনিটি পাঠাগার: প্রতিটি পাড়া বা মহল্লায় একটি করে পাঠাগার বা রিডিং প্লেস স্থাপন করা দরকার, যাতে তরুণরা বইয়ের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে পারে।

আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে আমাদের আগামী প্রজন্মকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে। আসুন, ভার্চুয়াল জগৎ থেকে আমাদের সন্তানদের টেনে এনে আবার খেলার মাঠে, লাইব্রেরিতে আর পারিবারিক আড্ডায় ফিরিয়ে আনি।

লেখক: অধ্যাপক, ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সারাবাংলা/পিটিএম/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর