ঢাকা: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০:৫০ নম্বর রাখার মাধ্যমে দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলের এই নেতা বলেন, আমরা জাতির পক্ষ থেকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছি এবং দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক সংসদ তৈরি হয়েছে তা সবার জানা। তবে অত্যন্ত শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় সমান নম্বর নির্ধারণের মাধ্যমে দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মেধার পরিবর্তে একটি কোটার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার প্রক্রিয়ার দিকে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে ।
তিনি আরও বলেন, প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখিয়ে প্রশাসনিকভাবে উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হলেও এ সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয় লোক বসানোর রাস্তা সুগম হবে।
বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত নম্বর বিভাজন তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে আগে ১০ ও ৯০ শতাংশের যে বিভাজন ছিল সেখানে ৫০-৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে আগে ১০ ও ৯০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৪০ ও ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে আগে ১০ ও ৪০ শতাংশের বিভাজন পরিবর্তন করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই কোটার ভিত্তিতে না হয়ে মেধার ভিত্তিতে যেন দেশ পরিচালিত হয় সে বিষয়ে এই সংসদকে অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়ে রুলিং দিয়ে জানান, পয়েন্ট অব অর্ডারে সংসদের চলমান বিষয়ের ওপর বা নিয়ম ভঙ্গের কোনো বিষয় থাকলে সদস্যরা বক্তব্য দিতে পারেন, কিন্তু নিয়োগ বিধি নিয়ে সংসদে এখন কোনো আলোচনা না হওয়ায় এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হয়নি।