Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া আন্দোলন সফল হয় না: রিজভী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:২৫ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৮

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

ঢাকা: সাংস্কৃতিক বাহিনী ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, একটি গান বা গানের একটি কলি সমাজ ও রাষ্ট্রে সুনামির চেয়েও বেশি তরঙ্গ তৈরি করতে পারে। ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা’, ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’—এ ধরনের গান ও স্লোগানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি গান বা একজন শিল্পীর শক্তি কয়েকটি এটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। এই শক্তি স্বৈরতন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘একজন নেতার কথা বলছি’ শীর্ষক গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের যে রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে থাকবে না, সেই আন্দোলন কখনোই সফল হবে না। এটা বড় বড় মনীষীদের কথা। প্রতিটি বৃহত্তর স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবে মূল সৈনিক হচ্ছে সাংস্কৃতিক বাহিনী। তারা প্রতিটি আন্দোলনের অগ্রগামী, অগ্রসেনানী। সাংস্কৃতিক বাহিনী সুসংগঠিত না থাকলে আন্দোলন সফল হয় না।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্টদেরও সাংস্কৃতিক দল ও সাংস্কৃতিক কর্মী ছিল। হিটলারের নাৎসি বাহিনী এবং মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট শাসকদের সঙ্গে অনেক বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী ছিলেন। কিন্তু শিল্পী হলেই যে মানবতাবাদী হবে, তা নয়।

রিজভী বলেন, ‘আজকে রোকেয়া প্রাচীরা শেখ হাসিনার গুণগান গাইছে এবং বহু চক্রান্তের মধ্যে তারা জড়িত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, হুমায়ূন আহমেদের ছোট স্ত্রী কী ধরনের ভূমিকা পালন করেছে?’

তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হলেই যে তার মন উদার ও মানবতাবাদী হবে, তা নয়। প্রকৃত সাংস্কৃতিক ব্যক্তি তিনিই, যার মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গুণাবলি রয়েছে। নজরুলের ‘গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাহি মহীয়ান’—এই দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নজরুলের গুণাবলি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে রয়েছে, তিনিই প্রকৃত অর্থে শিল্পী।

‘ওরা না’—মন্তব্য করে রিজভী বলেন, অনেক শিল্পীর মধ্যে এসব গুণ না থাকলে তারা ফ্যাসিস্টদের দোসর হতে পারে। আহনাফ, মুগ্ধ ও আবু সাঈদের মহিমান্বিত আত্মদান, তাঁদের শরীর থেকে রক্ত ঝরা এবং সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে যাওয়ার দৃশ্য তারা দেখেনি। তাদের চোখ দিয়ে তারা দেখেনি।

তিনি বলেন, ‘ওরা কত বদ্ধ ও কত সঙ্কীর্ণ যে, একই দেশের মানুষ হয়ে তারা একটা ভয়ঙ্কর ফ্যাসিস্টকে সহযোগিতা করেছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার-সুরকার ইথুন বাবু। জাসাসের সদস্য খালেদ এনাম মুন্নার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জল, শাম্মী আক্তার এমপি এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন প্রমুখ।