ঢাকা: অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর ঢাকার আদালতে জামিননামা জমা দিয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন।
এর আগে গত ১০ আগস্ট গাজী নজরুল ইসলাম-কে এ মামলায় আট সপ্তাহের জামিন দেন হাইকোর্ট।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেন গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।
এজাহারে বলা হয়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং গাজী নজরুল ইসলাম-এর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাসায় যাতায়াত ছিল নজরুল ইসলাম-এর।
বাদীর অভিযোগ, একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম-এর সঙ্গে তার ভাগনির অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলাম-কে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগনির কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিল। ওবায়দুর-ই ওই ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের কাছে দিয়েছেন এমন সন্দেহ থেকে তার ওপর ক্ষুব্ধ হন নজরুল ইসলাম।
বাদীর অভিযোগ, এর জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলাম-এর নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালান। ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুর।
এ সময় ওবায়দুর-এর মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ওবায়দুর।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার পর আসামিরা তাকে যেখানে পাবেন, সেখানেই হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়ে আসছেন।