চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁস: মাউশির কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর কারাগারে
২৭ জুলাই ২০২২ ১৫:৪১ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২২ ১৬:৫৮
ঢাকা: মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ৩১ তম ব্যাচের কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর হালদার ওরফে মিল্টনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার (২৭ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শুভ্রা চক্রবর্তীর আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও জোনাল টিমের এসআই (নিরস্ত্র) সুকান্ত বিশ্বাস লালবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় একদিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
এসময় আসামির পক্ষে তার আইনজীবী মো. আবু হানিফ জামিন আবেদন করেন। তবে শুনানির জন্য সময় চান তিনি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
লালবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার এসআই মো. হেলাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।
গত ২৪ জলাই রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে মিল্টনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর গত ২৫ জুলাই আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
ডিবি পুলিশ বলছে, কয়েক মাস ধরে এই মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। শুরুতেই চন্দ্র শেখর হালদারের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছিল। যেহেতু তিনি মাউশির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাই তার মোবাইল সিমকার্ড ভেরিফিকেশন, কল রেকর্ড যাচাই বাছাই এবং তার জড়িত সম্পর্কে অপর আসামিদের বক্তব্য ও প্রমাণাদি নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চন্দ্র শেখর হালদার মাউশির প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
মাউশিতে ৫১৩টি পদে নিয়োগের জন্য রাজধানীর ৬১টি কেন্দ্রে গত ১৩ মে নিয়োগ পরীক্ষা হয়। এতে প্রার্থী ছিলেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৪ জন। এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লালবাগ থানায় মামলা হয়। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষক আবদুল খালেক বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে পরীক্ষা শুরু হয় বেলা তিনটায়। পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থী সুমন জোয়াদ্দার নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন জোয়াদ্দার জানান, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বেলা ২টা ১৮ মিনিটে তার মুঠোফোনে পটুয়াখালীর সাইফুল ও টাঙ্গাইলের খোকন উত্তরপত্র পাঠান।
ওই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হলেন—পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রভাষক (৩৪তম বিসিএস) রাশেদুল ইসলাম, মাউশির উচ্চমান সহকারী আহসান হাবীব, অফিস সহকারী নওশাদুল ইসলাম, খেপুপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ও পরীক্ষার্থী সুমন জমাদ্দার। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় মাউশি ওই পরীক্ষা বাতিল করেছে।
সারাবাংলা/এআই/এসএসএ