ভারতীয় উগ্রপন্থীদের দাবিতে হুট করেই মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি সেই অবস্থানে অটল এবং শেষ পর্যন্ত অটল থাকতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদিকে, উতপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নিচ্ছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি।
বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আইসিসি। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দিনের যেকোনো সময়ে অনলাইনে সেই আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে হুট করেই বাদ দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি উঠেছে। বলা হচ্ছে, এক মোস্তাফিজকে যদি নিরাপত্তা দিতে না পারে ভারত তাহলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পুরো দলকে কিভাবে নিরাপত্তা দিবে। শুধু খেলোয়াড় নয় বিশ্বকাপে দলের কর্মকর্তা, স্টাফ, ইভেন্ট কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকগন এবং দর্শকরাও থাকবেন।
গতকাল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে ক্রিকেট খেলা নিরাপদ বোধ করছে না বাংলাদেশ।
এদিকে শোনা যাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে রাজি করাতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ভারত। আজ আইসিসি-বিসিবির বৈঠকে সে বিষয়টি উঠতে পারে। তবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পেলেও ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমকে এমন কথাই জানিয়েছেন বিসিবির এক পরিচালক।
ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, বিসিবির প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় আয়োজনের কথা ইতিবাচকভাবে চিন্তা করছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই। তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটানো সহজ হবে না।
বিশ্বকাপের মাত্র একমাস বাকি। এই অল্প সময়ের মধ্যে পূনরায় সূচি নির্ধারণ করা, টেলিভিশন সম্প্রচারসহ নানান কিছুতেই পরিবর্তন আনতে হবে। আগের সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে ভারতের মাটিতে চারটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় সরিয়ে নিতে হলে বাংলাদেশের চার প্রতিপক্ষকেও রাজি করাতে হবে।
আইসিসির সঙ্গে বিসিবির আজকের বৈঠকের পর হয়ত বিষয়টি অনেকটা পরিস্কার হবে। গতকাল বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমরা ভারতে না যাওয়ার বিষয়টি আইসিসিকে জানিয়েছি। এখন ফিরতি ই-মেইল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো আমরা।