দ্বাদশ বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ১১১ রান তুলেছিল রংপুর রাইডার্স। কিন্তু এতো অল্প পুঁজির ম্যাচটাও যে শেষ পর্যন্ত এভাবে জমবে সেটা জানত কে! পরতে পরতে রং পাল্টানো ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেট টাইটান্সকে জিতিয়েছেন ইংলিশ তারকা ক্রিস ওকস।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রান। ক্রিজে ছিলেন সিলেটের দুই ইংলিশ ব্যাটার মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। ফাহিম আশরাফের করা ওভারে মঈন প্রথম ৪ বল খেলে ২ রান নিয়ে ফেরেন চতুর্থ বলে। ওভারের পঞ্চম বলে ১ রান নেন নতুন ব্যাটার নাসুম আহমেদ। অর্থাৎ জিততে শেষ বলে ৬ রান লাগত সিলেটের। ফাহিম আশরাফকে এক্সট্রা কাভার দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেটের রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করেছেন ওকস।
এই জয়ে দ্বাদশ বিপিএলের কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হলো সিলেটের। অপর দিকে টুর্নামেন্টের তারকা সমৃদ্ধ দল রংপুর বিদায় নিল এলিমিনেটর ম্যাচ থেকে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১১ রানের পুঁজি নিয়ে রংপুর দারুণ বোলিং করেছে। রংপুরের বোলিং ইনিংস ওপেন করা মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দিয়েছেন। রংপুরের অপর দুই পেসার ফাহিম আশরাফ ও নাহিদ রানাও দারুণ বোলিং করেছেন। বিশেষ করে নাহিদ রানা গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাঁপিয়েছেন। আর মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনার আলিস আল ইসলাম ছিলেন রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য।
দারুণ খেলতে থাকা পারভেজ হোসেন ইমনকে (১২ বলে ১৮ রান) দলীয় ৩৮ রানে ফেরান আলিস আল ইসলাম। ৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পরে সিলেট। এরপর রংপুরের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করে গেছেন স্যাম বিলিংস।

দলীয় ৯৭ রানের মাথায় বিলিংস ২৯ রান করে ফিরলে ম্যাচ জমে যায়। শেষ দিকে মঈন আলীর কাঁধে ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে পারেননি ইংলিশ অলরাউন্ডার। তিনি আউট হয়েছেন ৯ বলে ৫ রান করে। তবে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে কাঁদিয়েছেন ক্রিস ওকস।
এর আগে ব্যাটিংটা একদমই ভালো হয়নি রংপুর রাইডার্সের। রংপুরের প্রথম চার ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ডেভিড মালান ৪, তাওহিদ হৃদয় ৪, লিটন দাস ১ ও কাইল মায়ার্স আউট হয়েছেন ৮ রান করে।
মিডল অর্ডারে মাহমুদউল্লাহ আর খুশদিল শাহ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি আবার নিচের দিকের কেউ সেভাবে দাঁড়াতেও পারেনি।
ফলাফল নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো রংপুর ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে থেমেছে ১১১ রানে। দলটির পক্ষে ২৬ বলে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেছেন মাহমদুউল্লাহ। এছাড়া খুশদিল শাহ ১৯ বল খেলে ৩টি ছয়ে ৩০ রান করেন। এছাড়া রংপুরের পক্ষে দুই অঙ্কের কোটা পেরুতে পেরেছেন কেবল নুরুল হাসান সোহান (১৮)।
সিলেটের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন দুই পেসার খালেদ আহমেদ ও ক্রিস ওকস। খালেদ ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। নতুন খেলতে আসা ওকস ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।