টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৬৫ রানের জয় দরকার ছিল পাকিস্তানের। একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল কঠিন সমীকরণটা বুঝি মিলেয়ে ফেলতে পারবে পাকিস্তান! নিজেরা আগে ব্যাট করে ২১২ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পর ১০১ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পরে দাশুন শানাকার ঝড়ে পাকিস্তানের সেই সম্ভবনা উড়ে গেছে।
শানাকা ঝড়ে শেষ দিকে জয়ের সুবাসও পাচ্ছিল শ্রীলংকা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ৫ রানে জিতেছে। তবে সালমান আলী আগার দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে তার আনেক আগেই। পাকিস্তানের বিদায়ে গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে গেল নিউজিল্যান্ড। এই গ্রুপের প্রথম দল হিসেবে সেমিতে উঠেছে ইংল্যান্ড।
পাকিস্তান সুপার এইটের তিন ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছিল, শ্রীলংকার বিপক্ষে জিতেছিল। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
আজ ২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ইনফর্ম ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ৭ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন। আরেক ওপেনার কামিল মিশরা ১৫ বলে ২৬ রান করে ফিরেছেন। ৩৩ রানে দুই ওপেনার হারিয়ে চাপে পড়ে লঙ্কানরা।
এরপর হাল ধরেন চারিথ আসালঙ্কা ও পবন রথনায়েকে। তৃতীয় উইকেটে তারা যোগ করেন ৪২ রান। ২৫ রান করে ফিরেন আসালঙ্কা। দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন কামিন্দু মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে। তবে পবন রত্নায়েকের সঙ্গে অভিজ্ঞ দাসুন শানাকা জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরার আশা জাগান স্বাগতিকরা।
পবন ৫৮ রান করে আউট হওয়ার আগে দুজন মিলে ৬১ রানের জুটি গড়েন। তাতে ১৪৭ রান পার করে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিফাইনাল দৌড় থেকে ছিটকে দেয় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ম্যাচের লড়াই তখনও বাকি।
শেষ ১৫ বলে প্রয়োজন ছিল ৫১ রান। শানাকা ঝড় তুলে সমীকরণ নামিয়ে আনেন নাগালের মধ্যে। শেষ ওভারে দরকার পড়ে ২৮ রান। শাহিন আফ্রিদির করা ওই ওভারে এক চার ও টানা তিন ছক্কা হাঁকিয়ে পাকিস্তান শিবিরে শঙ্কা তৈরি করেন লঙ্কান অধিনায়ক। তবে শেষ দুই বলে রান নিতে না পারায় নাটকীয়ভাবে ৫ রানের জয় পায় পাকিস্তান।
২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২০৭ রান করে শ্রীলঙ্কা। শানাকা ৩১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ২ চার ও ৮ ছক্কা। এই জয়ে পাকিস্তানের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৩, যা নিউজিল্যান্ডের সমান। তবে নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় তাদের।

এর আগে দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের ব্যাটে বড় স্কোর গড়ে পাকিস্তান। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। দশম ওভার শেষ হওয়ার এক বল আগেই দলীয় শতরান পূর্ণ হয়। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান তখনই তুলে নেন অর্ধশতক এবং গড়েন এক আসরে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।
ফারহান ও ফখর জামান মিলে ৯৪ বল স্থায়ী ১৭৬ রানের জুটি গড়েন। এর মাধ্যমে তারা চলতি আসরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন–এর ১৭৫ রানের জুটির রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে দুষ্মন্ত চামিরা ১৭৬ রানের জুটি ভাঙেন। ৪২ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৪ রান করে বোল্ড হন ফখর জামান। পরের ওভারে দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে থামেন খাজা নাফাই। ২০০ থেকে দুই রান দূরে থাকতে রান আউট হন শাদাব খান।
১৯তম ওভারের প্রথম বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফারহান। চলতি বিশ্বকাপে এর আগেও একটা সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান। যেটি আসরে দুই সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড।
ফারহান ৬০ বলে ৯ চার ও ৫ ছক্কায় ঠিক ১০০ রানে আউট হন। চলতি আসরে ৬ ইনিংসে তার সংগ্রহ ৩৮৩ রান, গড় ৯৫.৭৫। শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারায় পাকিস্তান—শাহিন আফ্রিদি চার মারার পরের বলেই বিদায় নেন, নাসিম শাহও রান আউট হন।
শ্রীলঙ্কার হয়ে মাদুশাঙ্কা নেন সর্বোচ্চ তিন উইকেট, আর দাসুন শানাকা দুটি উইকেট নিয়েছেন।