তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘটল বিপরীত ঘটনা। বাংলাদেশকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়ে ব্যবধানে জিতেছে পাকিস্তান।
আগে ব্যাটিং করে ২৭৪ রান তুলেছিল পাকিস্তান। পরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে বাংলাদেশ। তারপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকে অনেকটা সময়। বৃষ্টি শেষে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ হয় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে ১১৪ রানেই।
ডিএল ম্যাথডে পাকিস্তানের ১২৮ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ ব্যবধানে সমতা। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে মাঠে গড়াবে আগামী পরশু। সেই ম্যাচেই নির্ধারণ হবে ম্যাচের ভাগ্য।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭৪ রানের জবাব দিতে নেমে ৬.৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২৭ রান। শিলাবৃষ্টির কারণে তারপর আর খেলা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মিরপুরের মাঠে আগ থেকেই ঘন মেঘ দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ করে আকাশ থেকে শিলা নামতে শুরু হয়। আম্পায়াররা ম্যাচ বন্ধ করে দিয়েছেন। পরে মুশলধারে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টি শেষে অনেকক্ষণ পর শুরু হয় খেলা। নতুন করে খেলা শুরু হওয়ার পর লিটন দাস আর তাওহিদ হৃদয়ের জুটি বেশ ভালোই জমেছিল। কিন্তু এই জুটি ভাঙতেই টপাটপ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
দলীয় ৭৩ রানের মাথায় ৩৩ বলে ৪টি চার ২টি ছয়ে ৪১ রান করা লিটন দাস ফিরেছেন। এরপর ৪১ রান তুলতে বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছেন। এছাড়া দুই অঙ্কের কোটা পেরুতে পেরেছেন ওপেনার সাইফ হাসান (১২) ও আফিফ হোসেন ধ্রুব (১৪)।
পাকিস্তানের হয়ে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মাজ সাদাকাত ও হারিস রউফ।

এর আগে ব্যাটিং করে ২৭৪ রান তোলে পাকিস্তান। আজ শুরু থেকেই বেশ ভালো ব্যাটিং করছেন পাকিস্তান। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা মাজ সাদাকাত খেলছেন দারুণ ক্রিকেট। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন তরুণ ওপেনার। ১৩তম ওভারে পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মেহেদি হাসান মিরাজ। মিরাজকে স্কুপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন সাদাকাত। ফেরার আগে মাত্র ৪৬ বলে ৬টি চার ৫টি ছক্কায় করেন ৭৫ রান।
খানিক বাদে জোড়া উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ১২১ রানের মাথায় শাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। ৪৬ বলে ৩১ রান করে ফেরেন পাকিস্তানি ওপেনার। পরের ওভারে শামিল হোসেনকে ফেরান নাহিদ রানা। তবে তারপর দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান পাকিস্তানকে টেনেছেন দারুণভাবে।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১১৫ বল খেলে ১০৫ রান তোলেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ৬২ বলে ৭টি চার ২টি ছয়ে ৬৪ রান করা সালমান আলি আগা রান আউট হয়ে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। মেহেদি হাসান মিরাজের করা সেই ওভারেই ক্যাচ আউট হন রিজওয়ান। ফেরার আগে ৫৯ বল খেলে ৫টি চারের সাহায্যে ৪৪ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
দুই সেট ব্যাটার পর পর ফিরলে পরে আর সুবিধা করতে পারেনি পাকিস্তান। রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজদের স্পিনের সামনে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি।
৪৭.৩ ওভারে ২৭৪ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের সেরা বোলার লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। ৯.৩ ওভার বোলিং করে ৫৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী মিরাজ।