খেলার ৭৪ মিনিট হয়ে গেছে। তখনো ফলাফল গোলশূন্য। হঠাৎ করেই বসনিয়ার দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেঙে ঢুকে পড়েন ইয়োহান মানজাম্বি। চোখ-ধাঁধানো ভলিতে বল জালে জড়িয়ে সুইসদের ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। আবার ম্যাচের ৮০ মিনিটে ফাউল করে বসেন বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। রেফারি কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করেন তাকে। এক লাল কার্ডেই ওলটপালট হয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রক্ষণ। ফলে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে বসনিয়াকে ৪–১ ব্যবধানের গোলবন্যায় ভাসিয়ে দেয় সুইজারল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের পথে ভালোভাবেই টিকে রইল সুইসরা।
প্রথমার্ধের গোলখরার পর মূলত দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে দেখা মেলে আসল রোমাঞ্চের। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই চেনা ছন্দে ফুটবল খেলতে পারেনি। প্রথমার্ধ জুড়েই ছিল শুধু ফাউলের মহড়া আর ভুল পাস। দুই দল মিলে প্রথমার্ধে প্রায় পাঁচশ পাস খেললেও জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি কোনো দলই। সুইজারল্যান্ড প্রথমার্ধে চারটি শট নিয়ে মাত্র একটি অন-টার্গেটে রাখতে পেরেছিল। অন্যদিকে তিন শটের একটিও পোস্টে রাখতে পারে বসনিয়া। আর দুই দলের গোলরক্ষকই একটি করে সেভ করায় গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দল দুটি।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমণের ধার বাড়ায় সুইসরা। এর এই ধারের জোরেই অবশেষে ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বসনিয়ার দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙেন ইয়োহান মানজাম্বি। এক চোখধাঁধানো ভলিতে বল জালে জড়িয়ে সুইসদের ১-০ গোলে এগিয়ে নেন তিনি। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট আসে ৮০ মিনিটে। সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এমবোলো একক নৈপুণ্যে বসনিয়ার ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে থামাতে ফাউল করে বসেন বসনিয়ান ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ। রেফারি কোনো দ্বিধা না করে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মুহারেমোভিচকে মাঠছাড়া করেন।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার খেসারত বসনিয়াকে দিতে হয়েছে চড়া সুদে। একজন কম থাকার সুযোগ নিয়ে বসনিয়ার ওপর টর্নেডো চালায় সুইসরা। ৮৪ মিনিটে দলের হয়ে ব্যবধান ২-০ করেন রুবেন ভারগাস। এর ঠিক ছয় মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে বসনিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সেই ইয়োহান মানজাম্বি। তবে ম্যাচের নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ে সান্ত্বনা হিসেবে বসনিয়ার পক্ষে এক গোল শোধ করেন আমর মেমিচ। কিন্তু বসনিয়ার উল্লাসের আয়ু ছিল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ম্যাচের একদম শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে বসনিয়ার বক্সে ফাউল হলে পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। স্পট থেকে গোল করেন সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা। এর মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইসরা।