কক্সবাজার: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ছয় সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবার কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। পরিবারটির সদস্যদের মধ্যে দুই নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/১৯ ব্লকে নিকটাত্মীয় আসিয়া বিবির বসতঘরে আশ্রয় নেয় পরিবারটি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পরিবারটির সদস্যরা হলেন ফারুক আহমেদ (৪৫), সাতারা বেগম (৩৮), বিবিজান (১৮), মজিউর রহমান (১৪), আব্দুর রহমান (১৩) ও হাবিবুর রহমান (৯)।
প্রশাসন সূত্র জানায়, তারা মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জলসীমা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এজন্য দালালদের সহযোগিতায় প্রায় ৭০ লাখ কিয়াট (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার লাখ টাকা) পরিশোধ করেছেন বলে তারা প্রশাসনকে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের ইনচার্জ ও উপসচিব আজগর আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশ করা পরিবারটি বর্তমানে তাদের নিকটাত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছে। বিষয়টি যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতার কারণে ২০২৪ সাল থেকে আবারও সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাড়তে শুরু করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৪ সালের শেষদিকে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি বড় ঢল তৈরি হয়। গত প্রায় ২০ মাসে নতুন করে দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজ চলছে।
এদিকে, রাখাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রোহিঙ্গা খবর’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তৎপরতার কারণে উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে বুথিডং ও মংডু টাউনশিপে আটক, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং তরুণীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর আসতে থাকায় এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশের বিষয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মিডিয়া উইং সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।