ঢাকা: ধর্ম ব্যবসা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না- বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে কখনো দেশ চালানো সম্ভব নয়। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনার সমন্বয়েই জাতীয়তাবাদী শক্তি গড়ে উঠেছে । রাষ্ট্রকে সঠিক পথে আনতে আইনের ভেতরে থেকে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করা যেতে পারে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৮ কোটি মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন পিএনপির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ফিরোজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র রক্ষা এবং জাতীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার বক্তব্যে বিগত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, কাউকে বেহেশতের টিকিট দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই তারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তবে তারেক রহমানের কোনো ধরনের তোষামোদ বা চাটুকারিতা তারা করবেন না, বরং তাকে সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করা হবে এবং এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনায় তার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিগত সরকারের নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতকে যা দিয়েছেন তা অত্যন্ত বেশি। সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রশ্নে দেশের সীমান্ত ছাড়াও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও তীক্ষ্ণ নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ঐক্যের ধারা বজায় রেখে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন। সভাপতির বক্তব্যে ফিরোজ আহমেদ এবং জয়নুল আবদিন ফারুকও দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।