Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। কুয়াশা ভেজা বাতাসে মিশে আছে এক ধরনের নীরবতা। যেন ইতিহাস নিজেই দাঁড়িয়ে আছে শ্রদ্ধায়। এই ভোরটা অন্য সব ভোরের মতো নয়। কারণ, আজ স্বাধীনতা দিবস। একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দিন, বেঁচে থাকার অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনটির পেছনে আছে এক অন্ধকার রাত। ২৫ মার্চের সেই বিভীষিকাময় রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী শুরু করে বর্বর অভিযান অপারেশন সার্চলাইট। নিরস্ত্র মানুষের ওপর চলে গণহত্যা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হলগুলো রক্তে ভেসে যায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন-এ প্রতিরোধ গড়ে তোলা পুলিশ সদস্যদের ওপর নেমে আসে নির্মম হামলা। আগুন জ্বলে ওঠে শহরের অলিতে-গলিতে, আর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মানুষের অন্তরে।

বিজ্ঞাপন

এই অমানবিকতার মধ্যেই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে সেই বার্তা পৌঁছে দেন সর্বত্র বাংলাদেশ স্বাধীন।

তারপর শুরু হয় দীর্ঘ নয় মাসের লড়াই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। এই যুদ্ধে কোনো একক শ্রেণি নয়, ঝাঁপিয়ে পড়েছিল গোটা দেশ ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, নারী-পুরুষ। কারো হাতে ছিল অস্ত্র, কারো হাতে ছিল স্বপ্ন; কিন্তু লক্ষ্য ছিল এক স্বাধীনতা।
শহিদদের রক্তে রঞ্জিত সেই পথ পেরিয়ে আসে বিজয়ের সকাল। ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় একটি নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

আজ, এত বছর পরও ২৬ মার্চের ভোর আমাদের থামিয়ে দেয়। স্মরণ করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন নয়, এটি সংগ্রাম, ত্যাগ আর অসীম সাহসের ফসল। জাতীয় স্মৃতিসৌধ-এর বেদিতে যখন ফুল পড়ে, তখন শুধু ফুল নয়, নতমস্তকে দাঁড়িয়ে থাকে একটি জাতি।

আজকের প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা শুধু একটি ছুটির দিন নয়, বরং দায়িত্বের প্রতিশ্রুতি। সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার, যার জন্য জীবন দিয়েছেন লক্ষ শহিদ।

সারাবাংলা/এফএন/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর