Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

লাল-সবুজের উল্লাসে মুখর জাতীয় স্মৃতিসৌধ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষ সমবেত হন স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাধারণ মানুষের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হলে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে রূপ নেয়। নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা যেন একখণ্ড লাল-সবুজের প্রান্তরে পরিণত হয়।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে এবং স্মৃতিসৌধের মূল বেদী ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। এ সময় সবার চোখেমুখে শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার ছাপ।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল আজকের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। মাথায় জাতীয় পতাকার ব্যান্ড এবং গায়ে লাল-সবুজ পোশাক পরে অসংখ্য শিশুকে তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে আসতে দেখা গেছে। তারা হাতে ছোট ছোট জাতীয় পতাকা নিয়ে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠছে। পতাকা হাতে শিশুদের উচ্ছল হাসি যেন জানান দিচ্ছিল নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের এক নতুন জাগরণ।

এদিকে, পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন।

এর আগে, ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, একটি জাতির অস্তিত্বের লড়াই। শহর থেকে গ্রাম, কৃষক থেকে ছাত্র, নারী থেকে বৃদ্ধ, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে। গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী।

দীর্ঘ নয় মাস ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তক্ষয়ের এক মহাকাব্য। অসংখ্য মানুষ প্রাণ দেয়, লাখো নারী নির্যাতনের শিকার হয়, কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়। তবু দমে যায়নি বাঙালি। বরং প্রতিটি আঘাত তাকে আরও দৃঢ় করেছে। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়ের সূর্য। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা উড়ে ওঠে বিশ্বের মানচিত্রে। স্বাধীনতার এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের গল্প। এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।

সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

নয়া পল্টনে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩১

৩ জেলায় নতুন ডিসি, একজনকে বদলি
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:২৯

আরো

সম্পর্কিত খবর