Tuesday 03 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কক্সবাজারে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩১ মার্চ ২০২৬ ১৭:২২
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজার: জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানান, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে শিশুটি শুধু হামে আক্রান্ত ছিল না। তার নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতাও ছিল। পাশাপাশি সে আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর প্রথমে মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার না করলেও পরে জানান, শিশুটি হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিল এবং চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।

তবে শিশুটির পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে ১১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে মোট ভর্তি রয়েছে ৩৭ জন। এ পর্যন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ১১৯ শিশু। এর মধ্যে ৮২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

রোগীর চাপ সামাল দিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে আলাদা নার্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডা. শহিদুল আলম বলেন, ‘প্রতিদিন কয়েকগুণ হারে রোগী বাড়ছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সবাই সহযোগিতা করলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের পাশাপাশি কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেও হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালটির সুপারভাইজার ইরফানুল হক সবুজ জানান, গত ১৫ রমজান থেকে সেখানে হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হতে শুরু করে। বর্তমানে ৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়। বিশেষ করে মহেশখালীর হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুর দোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘হামের টিকা ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই দফায় দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন-‘এ’ এর অভাব এবং অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে হাম বেশি দেখা দেয়। তারা অভিভাবকদের শিশুদের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর