ঢাকা: ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দেওয়া বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণের সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত বিআরপিডি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা বিআরপিডি সার্কুলারের আওতায় নীতি সহায়তা পেতে নতুন আবেদন করা যাবে। তবে যেসব ঋণগ্রহীতা এর আগে একই সার্কুলার বা ব্যবসা ও আর্থিক ব্যবস্থাদি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত বাছাই কমিটি থেকে নীতি সহায়তা পেয়েছেন, তাদের আবেদন আর বিবেচনা করা হবে না।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ—যেমন এসটিডি-০, এসটিডি-১, এসটিডি-২ ও এসএমএ হিসাব—বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আনা যাবে। এছাড়া ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ—এসএস, ডিএফ ও বি/এল—বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ সার্কুলারের আওতায় জমা পড়া নতুন আবেদন তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ডাউন পেমেন্ট চেক বা অন্য কোনো ইনস্ট্রুমেন্টে পরিশোধ করা হলে তা নগদায়নের পর থেকে তিন মাস গণনা শুরু হবে। তবে ডাউন পেমেন্ট নগদায়নের আগে নীতি সহায়তার আবেদন কার্যকর করা যাবে না।
এছাড়া বিশেষ এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণসমূহ ‘এক্সিট (এসএমএ)’ মানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এসব ঋণের বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃত আদায় ছাড়া পূর্বে সংরক্ষিত স্পেসিফিক প্রভিশন ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাধারণ প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনে এর একটি অংশ স্থানান্তর করা যাবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত এক্সিট সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নতুন কোনো ঋণসুবিধা দিতে পারবে না। শুধু বিদ্যমান ঋণ সুবিধা চালু রাখা যাবে।
এদিকে, বিআরপিডি সার্কুলার ২০২৫ এর ৪(ঙ) অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্দেশনা বাতিল করা হয়েছে। তবে আগের সার্কুলার ও এ-সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।