ঢাকা: দেশের ব্যাংক খাতে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও নৈতিক জনবল গড়ে তুলতে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য ফাউন্ডেশন ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে স্থায়ী হওয়ার আগে সব নতুন কর্মকর্তাকে অন্তত ১৪ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধান ও নীতি বিভাগ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার কারণে ব্যাংকারদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। এ কারণে সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম প্রশিক্ষণ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মকর্তার পদবির ভিন্নতা থাকলেও নিয়মটি সবার জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (এমটিও), প্রবেশনারি অফিসার, সিনিয়র অফিসার বা অফিসার—সব নবনিযুক্ত কর্মকর্তাকেই এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া যেসব কর্মকর্তা পদোন্নতির মাধ্যমে সমমানের পদে এসেছেন কিন্তু আগে ফাউন্ডেশন ট্রেনিং নেননি, তাদেরও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের মোট মেয়াদ হবে কমপক্ষে ১৪ সপ্তাহ। এর মধ্যে অন্তত আট সপ্তাহ তাত্ত্বিক এবং ছয় সপ্তাহ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ থাকতে হবে।
প্রশিক্ষণের পাঠ্যসূচিতে অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যাংকিং কার্যক্রম, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়ন, ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা, এসএমই ও কৃষি অর্থায়ন এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ নীতিমালা ও মডিউল তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শুধু ন্যূনতম মানদণ্ডে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত কোর্স চালুর পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নীতিমালায় নৈতিক আচরণ, গ্রাহকসেবা, জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং ব্যাংকিং আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।