কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করতে গিয়ে তুমুল হট্টগোলের মুখে পড়েন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন মুফতি আমির হামজা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে এমপি আমির হামজা টুর্নামেন্ট উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও তাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন।
এ পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান।
এ সময় এমপি আমির হামজা পুলিশের সঙ্গে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালীন সময়ে মাননীয় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।’
তবে এ স্ট্যাটাসের নিচে জানানো হয়েছে, এটি অ্যাডমিন প্যানেলের করা পোস্ট।
এ বিষয়ে আমির হামজা বলেন, ‘এখানে কলেজের ছোট ছোট কিছু গাছ ছিল। রাতের আঁধারে কারা ওই গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এখানে অনুষ্ঠানে আমার থাকার কথা ছিল। আমি সেখানে প্রধান অতিথি ছিলাম।’
তবে তার অবরুদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যান।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোল্লা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমাদের দাওয়াতে মাননীয় এমপি আমির হামজা আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে আসেন। কয়েকজন ছাত্র আমাদের ও মাননীয় সংসদ সদস্যকে বিব্রত করার জন্য মূল ফটকের সামনে মানববন্ধনের নামে একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। মঞ্চের পাশে এসে যখন মাননীয় সংসদ সদস্য কথা বলছিলেন, এ সময় তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছে। এভাবে আমাদের ছোটো করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু ছাত্র নামধারী, কিছু বহিরাগত। যারা এই কাজ করেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে তিনি ফোর্স নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমির হামজা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে তার সঙ্গেই বেরিয়ে আসেন এবং কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে চলে যান।