Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সহায়তা, শার্শায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেফতার ২

লোকাল করেসপন্ডেন্ট
৯ মে ২০২৬ ১৪:৩৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেনাপোল: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৯ মে) সকালে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তের পর তাদের আটক করা হয় এবং রাতে মামলা দায়ের করা হয়।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন ঝিকরগাছা উপজেলার কুলবাড়িয়া বিকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সে বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা শেষে প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন গোপনে মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করেন। পরে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনের সহায়তায় উত্তরপত্রের ভুল সংশোধন করে তা পুনরায় জমা দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দুইজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ কে এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘তদন্তে অনৈতিক সহযোগিতার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রের পবিত্রতা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৮, ৯, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটকদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে শিক্ষাঙ্গনের নৈতিকতা ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর