দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় সুপারস্টার থালাপতি বিজয় এখন কেবল রূপালি পর্দার নায়ক নন, বরং বাস্তবের রাজনীতির ময়দানেও এক অপ্রতিরোধ্য নাম। চলচ্চিত্র নির্মাতা এ আর মুরুগাদোস পরিচালিত ‘সরকার’ সিনেমাটি যখন মুক্তি পায়, তখনই এতে ভোট ও রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জোরালো বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে বিজয়ের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করায় তার সেই পর্দার সংগ্রামের গল্পটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।
‘সরকার’ সিনেমায় বিজয় অভিনয় করেছেন সুন্দর রামাসামি চরিত্রে, যিনি একজন সফল করপোরেট সিইও। বিদেশ থেকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভারতে এসে তিনি এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সুন্দর জানতে পারেন, তার ভোটটি আগেই কেউ জালিয়াতির মাধ্যমে দিয়ে দিয়েছে। এই একটি ঘটনা তাকে আমূল বদলে দেয়। নিজের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই থেকে শুরু করে তিনি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দুর্নীতি, ভোট কারচুপি এবং ক্ষমতাসীন ঘুণে ধরা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুশাসনের দাবিতে বড় এক রাজনৈতিক সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া সুন্দর রামাসামিকে দেখা যায় এক পর্যায়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে।
সিনেমাটি মূলত রাজনৈতিক দুর্নীতি, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং জনগণের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ নিয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী অ্যাকশন-ড্রামা। থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারে নাচ, অ্যাকশন আর কমেডির যে চিরচেনা বিনোদনমূলক ইমেজ ছিল, ‘সরকার’ সিনেমাটি সেখানে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তার অভিনীত চরিত্রগুলো সবসময়ই সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে প্রভাবশালী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছে। সিনেমার সেই সূক্ষ্ম কিন্তু ধারালো রাজনৈতিক বার্তাগুলোই হয়তো তার ভক্তদের মনে এক বিশেষ জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল।
২০২৪ সালে রাজনীতিতে নাম লেখানো এই তারকা অভিনেতা এখন বাস্তবেই রাজনীতির এক সফল ব্যক্তিত্ব। সিনেমার সেই ‘সিইও থেকে মুখ্যমন্ত্রী’ হওয়ার রেশ যেন এখন তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মানচিত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিজয়ের এই উত্তরণ যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার এক অনন্য নজির। পর্দার সেই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় এখন বাস্তবেও সুশাসন আর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিজয় কী ভূমিকা রাখেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।