চাঁদপুর: জেলার কচুয়ায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর স্কুল শিক্ষার্থী শাকিবের মাথার খুলি ও শরীরের কিছু হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত শাকিব হাসান কচুয়া উপজেলার ১ নম্বর সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজী বাড়ি) এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে। গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে কেউ তার নাম ধরে ডাক দিলে সে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে শাকিবের দাদা মোস্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।
পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি তার কৃষিজমির পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পরীক্ষায় সেগুলো শাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই ফ. ম. শাহজাহান।
ঘটনার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে।
অভিযানে বিশ্বস্ত সূত্রের সহায়তায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে গত ৮ মে সন্ধ্যা থেকে ৯ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭)। গ্রেফতারকৃত দু’জনেই উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা শাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ পানির নিচে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানির নিচে ফেলে দেয়, যাতে লাশ ভেসে না ওঠে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে শনিবার (১০ মে) আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।