Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আরও আগেই হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৪

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধানের বিষয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত।

বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তার স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজনে রোববার (১৬ আগস্ট) বারিধারায় অনুষ্ঠিত এক নৈশভোজে এ কথা বলেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন,‘সাক্ষাৎ ও আলোচনার মাধ্যমেই কেবল সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।’

তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদয়ের গভীর টান রয়েছে এবং তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সোনালি অধ্যায় দেখতে চান।

বিজ্ঞাপন

হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কেবল ভৌগোলিক সীমানাই নয়, বরং একটি অভিন্ন স্বপ্নও রয়েছে।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ। আমাদের নানা চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতা রয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকলে তাকে আর গণতন্ত্র বলা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব পরিসর বা স্বকীয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতে পারে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাদের লক্ষ্য যদি অভিন্ন হয় অর্থাৎ আমরা যদি চাই যে কেবল এই দুই দেশের মানুষই নয়, বরং সারা বিশ্বের মানুষই যেন মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে বসবাস করতে পারে তবেই তা সার্থক। আমরা সেই লক্ষ্য অর্জনেই সচেষ্ট। আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি ‘সোনালী অধ্যায়’ বা স্বর্ণযুগ গড়ে তোলা।’

সেই লক্ষ্য অর্জনে নিজের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, তাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উভয়েই প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব নেতা। তারা দুজনেই জনগণের মানুষ এবং তাদের লক্ষ্যও অভিন্ন। আর ঠিক এ কারণেই আমি গণমাধ্যমে বহুবার বলেছি যেখানেই আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, যখন এমন দুজন নেতা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হন ও আলোচনা করেন, তখন এমন কোনো সমস্যা বা বিষয় থাকে না যা নিয়ে আলোচনা করা বা যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

মাসুদ খান উল্লেখ করেন যে, সময়ের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক একটি ব্যাপক অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে, যার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, তবে অবশ্যই, আরও অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব এবং আমাদের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা সবসময় স্বীকার করে নিতে হবে।

মাসুদ খান আশা প্রকাশ করেন যে, হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ভারত খোলামেলা মনোভাব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে তাদের যৌথ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা অব্যাহত রাখবে। এবং এখানে তার সময়কালে আমরা তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপনকালে হাইকমিশনার গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অনন্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, আমরা স্বীকার করি যে, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জনগণের মধ্যকার এই সংযোগই হলো এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত প্রাণস্পন্দন।

ত্রিবেদী যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দুই দেশকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের অংশীদারিত্ব জোরদার করে এগিয়ে চলেছে।

তিনি বলেন, আসুন, যৌথ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অনন্য বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককেও আমরা আরও সুদৃঢ় করে তুলি।

হাইকমিশনার এই সম্পর্কের ভিত্তির কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাস দুই দেশকে একসূত্রে বেঁধেছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে তাদের এই সম্পর্ক।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে আমাদের বন্ধন গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অংশীদারিত্বের এই সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে, ত্রিবেদী বলেন।