Wednesday 28 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গুলশানে আ.লীগের মিছিল: প্রশাসনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা!

উজ্জল জিসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৭ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৫

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে সমালোচনা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ মিছিলের পর শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের সবাই ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে গুলশানের মতো জায়গায় কীভাবে দলটি মিছিল করতে পারল- সেটাই ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে।

শনিবার পুলিশের বিভিন্ন দফতরে কথা বলে জানা গেছে, মিছিল হবে এরকম আগাম কোনো তথ্য ছিল না। সাধারণত এনএসআই ও এসবি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়ে থাকে। এ ছাড়া সিআইডি, ডিএমপির নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিট এবং থানার সিভিল ইউনিটও আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এর বাইরে ডিজিএফআইও নানা ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে। আগাম তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত র‌্যাব ও পুলিশ আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু গতকাল গুলশানে আওয়ামী লীগের এত বড় মিছিলের আগাম কোনো তথ্য ছিল না। ফলে পুলিশ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখে গুলশান ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ৩২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। যাদের সবাইকে এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত লিখিত ও ম্যাসেজ আকারে সংস্থাগুলোর সদর দফতরে আগাম তথ্য পাঠানো হয়। দফতর প্রধানরা সেই তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের জানান। আর বাহিনী প্রধানরা সে অনুযায়ী আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। গতকালের ঘটনায় তেমন কোনো আগাম তথ্য মাঠ থেকে আসেনি।

কেন আসেনি তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এরই মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে নানা বিষয় উঠে এলেও গোয়েন্দা ব্যর্থতার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, তারা মিছিলের কোনো আগাম তথ্য পায়নি। তবে একটি জিনিস স্পষ্ট উঠে এসেছে যে, পরিকল্পনাটি হয়েছে গুলশানের বাইরে। বাইরে থেকে এসে তারা গুলশানে জড়ো হয়ে হঠাৎ করেই মিছিল করে পালিয়ে গেছে। যে কারনে মিছিলের আগে কোনো আগাম তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা।

বাড্ডা, সাঁতারকুল, রামপুরা, খিলগাঁও, রুপগঞ্জ থেকে লোকজন এলেও সেখানকার গোয়েন্দারা কেন আগাম তথ্য পায়নি তা নিয়েও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এদিকে মিছিলের ঘটনাটি নিছক গোয়েন্দা ব্যর্থতা, নাকি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অবহেলা, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানামুখী আলোচনা। মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দারা ইচ্ছা করেই এরকম তথ্য সংগ্রহ করেনি, নাকি তথ্য থাকার পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেনি- তা নিয়েও পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে চলছে বিশদ আলোচনা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মূলত এ ঘটনার জন্য সিটি এসবি ও এনএসআইকে দায়ী করা হচ্ছে। অবশ্য আগামীকালের মধ্যেই ওই এলাকার মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা সদস্যদের সরিয়ে অন্যত্র দেওয়া হবে বলে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য ওই এলাকার কর্মকর্তাদেরও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার কথা হচ্ছে।

গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের কাছে মিছিলের আগাম কোনো তথ্য ছিল না। দিনটি ছিল শুক্রবার এবং নামাজের আগে। প্রায় সবাই নামাজে গিয়েছিল, আবার কেউ কেউ দায়িত্বে ছিল। আগাম তথ্য থাকলে পিওএম থেকে ফোর্স আনা হতো। এরপরেও আমরা তাৎক্ষণিক মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পেরেছি। ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঝটিকা মিছিল করে। ওই সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করলে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের তদবির নিয়ে থানায় যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পর বিএনপি সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার গঠন করলে ঝটিকা মিছিল চলতেই থাকে।

ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশ প্রতিবারই গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু এবারে গুলশানে মতো জায়গায় যেখানে কুটনীতিক পাড়া, বিদেশিদের আনাগোনা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন-সেখানে কোনো তথ্য ছাড়াই নিষিদ্ধ সংগঠনের ঝটিকা মিছিল সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) আকতার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘গতকালের ঘটনায় সংগঠনটির ৩২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ রকম ঝটিকা মিছিল যাতে করতে না পারে, সেজন্য ডিএমপির সব ইউনিটকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।’ তবে তিনি আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকা না থাক নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর