ঢাকা: বাংলাদেশ সফররত জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. বারবেল কোফলার বলেছেন,বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় জার্মানি। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্বকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার জার্মান দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জার্মান উপমন্ত্রী ড. কোফলার বলেন, বাংলাদেশের সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে জার্মানির উন্নয়ন সহযোগিতা। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলেও দুই দেশের সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিযোজন ও জ্বালানি খাতে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত ঝুঁকি সামাল দিতে দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। একই সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মধ্যে ভারসাম্য রেখে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্ব বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য ও খাদ্যনিরাপত্তায় পড়ছে উল্লেখ করে ড. কোফলার বলেন, বাংলাদেশ, জার্মানি ও ইউরোপীয় অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা আরও টেকসই ও সংকটসহনশীল ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে এটি তাঁর তৃতীয় সফর। সফরের প্রথম দিনে নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এবং পরদিন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন জার্মানির এই উপমন্ত্রী।
এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ, তাদের প্রত্যাশা এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পাওয়ার কথা জানান তিনি।
জার্মানির ঐক্য দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ড. কোফলার বলেন, শান্তিপূর্ণ সম্পৃক্ততা, সংহতি ও বিভাজন অতিক্রমের যে মূল্যবোধ এ দিবস ধারণ করে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও সেগুলোর গুরুত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঢাকায় তার তিন দিনের সরকারি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সফরে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ের (জিটুজি) আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধরনও বদলানো প্রয়োজন বলে মনে করে দেশটি।
দুই দেশের আলোচনায় তাই প্রচলিত উন্নয়ন সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামর্থ্য এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।