Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:১০ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:১৮

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান

ঢাকা: সবার জন্য সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবাকে কেবল আধুনিক হাসপাতাল বা উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, কারণ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারের একটি হলে তিন দিনব্যাপী ইনোভেশন ফেয়ারের ‘সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বাস্তবায়নে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

নিজের বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও পরিবর্তন নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের ৯০ হাজারেরও বেশি গ্রামে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশের অনেক রোগী জটিল অবস্থায় পৌঁছানোর পর বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন এবং ঘরের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা না থাকায় তাদের দূর-দূরান্তে ছুটতে হয়। এ কারণে শুধু চিকিৎসাকেন্দ্রিক না হয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে রোগ প্রতিরোধমুখী হতে হবে, যাতে রোগ জটিল রূপ ধারণ করার আগেই তা শনাক্ত করা যায়।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গু সচেতনতা বৃদ্ধি ও শিশুদের টিকাদান জোরদার করতে পারলে প্রান্তিক মানুষকে আর ছোটখাটো রোগের জন্য দূরে ছুটতে হবে না।’

হৃদরোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সামাজিক স্ক্রিনিং ও ধারাবাহিক মনিটরিং ব্যবস্থার পাশাপাশি ডিমেনশিয়া ও পারকিনসন্স রোগের মতো বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসা প্রস্তুতির দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে, যেখানে নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেন তারা কমিউনিটি পর্যায়ে দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রসূতি সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

তিনি গর্ভবতী নারী ও শিশুদের উন্নত সেবা প্রদান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য একটি কার্যকর রেফারাল নেটওয়ার্ক তৈরির ওপর জোর দেন।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দেশের দক্ষ চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিদ্যমান আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘উদ্ভাবন মানেই কেবল ব্যয়বহুল যন্ত্র তৈরি বা নতুন অ্যাপস নয়, সাধারণ মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানই আসল উদ্ভাবন।’

বাংলাদেশের শক্তিশালী ওষুধ শিল্প, গবেষক ও ডিজিটাল প্রযুক্তিকে একসূত্রে বেঁধে সমন্বিত সেবাদানের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর