ঢাকা: নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় পর্যায়ক্রমে মোবাইল ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি।
একই সঙ্গে খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।’
আফরোজা খানম বলেন, ‘বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে আটটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে ঘটনাস্থলে দ্রুত খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।’
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ল্যাবরেটরি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় কমবে এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মানসম্মত খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হবে ‘
এ জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা নির্ধারণ, প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থায়নসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
খাদ্যপণ্যের পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের মন্ত্রী হিসেবে নয়, সহকর্মী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা সবাই মিলে কাজ করব। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং দেশের মানুষের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া।’
বর্তমান সরকার দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় খাদ্যসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওপর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এজন্য বসে থাকলে চলবে না; দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।’
সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন কর্তৃপক্ষের সচিব শ্রাবস্তী রায়। এতে সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। কর্মকর্তাদের মধ্যে তায়েফ আলী এবং কর্মচারীদের পক্ষে নূরন নবী বক্তব্য দেন।
এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব বা মোবাইল ভ্যান এবং ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত জানান।