বরিশাল: বরিশাল নগরের বাঘিয়া ইছাকাঠী কলোনির একটি বাসায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নাসিমা বেগম পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মোহাম্মদ নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৫) বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্বতয়কা গ্রামের মৃত সাত্তার হাওলাদারের ছেলে। তিনি বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এক আইনজীবীর মুহুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের সুবাদে নুরুজ্জামান পরিবার নিয়ে নগরের ইছাকাঠী এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই বাসায় নুরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগম ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। মঙ্গলবার ভোররাতে খবর পেয়ে পুলিশ বাসায় গিয়ে বিছানার ওপর নুরুজ্জামানের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
বাড়ির মালিক আহসান হাবিব জানান, ঘটনার আগের রাতে নাসিমা বেগম দুইবার বাসা থেকে বের হয়ে তার ভাতিজির সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি ভাতিজির হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে জানান, তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। পরে ওই ভাতিজি তার স্বামীকে নিয়ে বাসায় গেলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
বাড়ির মালিক ও স্থানীয় লোকজনের ধারণা, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ভোররাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় তলায় গিয়ে একটি কক্ষে নুরুজ্জামানের মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথার পেছনে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাড়ির মালিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে দুইবার বাসা থেকে বের হন নাসিমা বেগম। তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল। পরে ওই ব্যাগ তিনি তার ভাতিজির কাছে দিয়ে যান। ভাতিজির কাছ থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করে নিহতের মুঠোফোন, বাসার চাবিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পাওয়া গেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের ভেতর থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।’