Saturday 31 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গুলশান সোসাইটির আয়োজনে ‘শকুন্তলা’ নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ন   

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:০১ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২৩:০২

ঢাকা: প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের অন্যতম বিশেষ চরিত্র শকুন্তলা। তপোবনে বেড়ে ওঠা এই আশ্রমকন্যার প্রেম, বেদনা-বিধুর ভাগ্য, স্মৃতির-বিস্মৃতি- সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর এবং রোমাঞ্চকর এক পৌরাণিক আখ্যান ‘শকুন্তলা’।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গুলশান সোসাইটির আয়োজনে লেক পার্কে ধ্রুপদী নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে এই আখ্যানের মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মহাকাব্য থেকে জানা যায়, রাজর্ষি বিশ্বামিত্র ও স্বর্গীয় অপ্সরা মেনকার কন্যা শুকুন্তলা। রাজা দুষ্মন্তের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে এবং সন্তান সম্ভবা হন। কিন্তু দুর্বাসার অভিশাপে রাজা দুষ্মন্ত স্মৃতিভ্রম হয়ে সব ভুলে যান। এই অভিশাপ তাদের প্রেমের কঠিন পরীক্ষা নেয়। রাজা ভুলে যান প্রেমকা শকুন্তলাকে। তাকে অস্বীকার করেন।  অবশেষে, হারিয়ে যাওয়া রাজকীয় আংটিটি খুঁজে পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের ভাগ্যনির্ধারিত পুনর্মিলনের পথ প্রশস্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

মহাকবি কালিদাস তার বিখ্যাত সংস্কৃত নাটক ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’—এর মাধ্যমে অত্যন্ত চমৎকারভাবে কাহিনীর নাট্যরূপ দেন। আর নৃত্যদল ভাবনা এই নৃত্যনাট্যকে মঞ্চায়ণ করতে গিয়ে এক মোহনীয় আবহের তৈরী করেন গুলশান লেকের পাড়ে। এই নৃত্যনাট্যের নিদের্শনায় ছিলেন সামিনা হোসেন প্রেমা।

মোহনীয় এই অনুষ্ঠানে গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সংস্কৃতিপ্রেমীরা সমবেত হন।

এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত। তিনি এই বিশেষ আয়োজন সম্পর্কে বলেন, ‘ইট-পাথরের এই শহরে আমরা যানজট, ময়লা-আবর্জনা, যান-বাহণের হর্ণের শব্দ শুনতেই অভ্যস্ত। কিন্তু এর বাইরেও আমাদের মনে প্রেম-ভালোবাসা কিংবা একটা শিল্পসত্তা রয়েছে। কিন্তু আমরা তার জন্য সময় এবং পরিবেশ খুব একটা পাইনা।’

ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, ‘শকুন্তলা নৃত্যনাট্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতির ধারাকে প্রবাহিত করার একটা প্রয়াস চালিয়েছি।’

‘শকুন্তলা যেমন তার প্রেমিক রাজা দুষ্মন্তের আংটি হারানোর পর অনেক কষ্টে আবার ফিরে পায়, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরাও সেই আংটির মতই হারিয়ে যেতে বসা শিল্প, সংস্কৃতি এবং জীবন বোধ ফিরে পেতে চাই।’

সারাবাংলা/ইউজে/এসআর